প্রকাশিত : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:২০

সরকারি প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শেরপুরে আদিবাসী দুই নেত্রীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

এনামুল হক, বগুড়া:
সরকারি প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শেরপুরে আদিবাসী দুই নেত্রীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

বগুড়ার শেরপুরে আদিবাসী সম্প্রদায়ের সাংগঠনিক নেতৃত্ব ও সরকারি প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের জেরে মারধর, শ্লীলতাহানি ও টাকা ছিনতাইয়ের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে উপজেলা পরিষদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। শহরজুড়ে এ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে।

 
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শেরপুর উপজেলা আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক দীপা রানী বর্মণ সংগঠনের কাজে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বরাদ্দের চাহিদা পাঠাতে উপজেলা পরিষদে যান। সেখানে প্রতিপক্ষ আদিবাসী পরিষদের নেত্রী লক্ষ্মী রানী দাস ও তাঁর সহযোগীরা তাঁর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন দীপা রানী।
 
দীপা রানীর অভিযোগ, তাঁকে প্রকাশ্যে মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। এ সময় তাঁর ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে নগদ ৪০ হাজার টাকা ও জরুরি কাগজপত্র নিয়ে নেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
 
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা বক্তব্য দিয়েছেন লক্ষ্মী রানী দাস। তিনি বলেন, দীপা রানী ও তাঁর স্বামী উপজেলা গেটের সামনে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রথমে তাঁর ওপর আক্রমণ করেন। দীপা রানী আগে তাঁর গায়ে হাত তোলায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে জুতা খুলে তাঁকে মারধর করেন। তবে তিনি কোনো ব্যাগ বা টাকা নেননি বলে দাবি করেন লক্ষ্মী রানী।
 
অভিযুক্ত আদিবাসী পরিষদের নেতা বাসুদেব রায় বাগদী বলেন, লক্ষ্মী রানীর অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। তাঁর দাবি, সেলাই মেশিন ও বাইসাইকেল বিতরণসহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আদিবাসী সম্প্রদায়ের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে। তাঁরা হামলার শিকার হয়ে থানায় আগে অভিযোগ করেছেন এবং পরে তাঁদের হয়রানি করতে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে।
 
আরেক অভিযুক্ত বাবলু রবিদাস তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তবে মারামারি থামানোর চেষ্টা করেছেন। কোনো ব্যাগ বা টাকা নেওয়ার সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলেও দাবি করেন তিনি।
 
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, আদিবাসী সম্প্রদায়ের দুই পক্ষ থেকেই লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
উপরে