ফেসবুক ভিডিওতে মিলল হারিয়ে যাওয়া স্ত্রী, পুনর্মিলনের আবেগঘন ভিডিও
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় নিখোঁজ হওয়ার দুই মাস ২৩ দিন পর ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর মাধ্যমে স্ত্রীকে ফিরে পেয়েছেন আলী হোসেন (৫৭) নামের এক ব্যক্তি।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাইর উপজেলার গোবিন্দল গ্রাম থেকে স্ত্রীকে ফিরে পান তিনি। আলী হোসেন পেশায় দর্জি। তার বাড়ি সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি ইউনিয়নের ভাঙ্গাবাড়ি গ্রামে।
আলী হোসেন জানান, তার স্ত্রী প্রায় পাঁচ বছর আগে অসুস্থ হয়ে মানসিক সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন। ঢাকায় চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। তবে প্রায় তিন বছর আগে আবার অসুস্থ হয়ে নয় দিন নিখোঁজ ছিলেন। পরে তাকে খুঁজে পাওয়া গেলেও এবার দীর্ঘ সময়ের জন্য নিখোঁজ হন তিনি।
আলী হোসেন বলেন, ‘আমার স্ত্রী পাঁচ বছর আগে অসুস্থ হয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছিলেন। তখন ঢাকায় চিকিৎসা করানোর পর তিনি সুস্থ হন। কিন্তু তিন বছর আগে আবার অসুস্থ হয়ে তিনি ৯ দিন নিখোঁজ ছিলেন। পরে সুস্থ হলেও এবার আবারও নিখোঁজ হয়ে যান। দুই মাস ২৩ দিন পর আমি তাকে খুঁজে পেয়েছি। যে কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ভিডিওর মাধ্যমে স্ত্রীর খোঁজ পেয়েছি, তাকে ধন্যবাদ।’
স্বজনেরা জানান, প্রায় আড়াই মাস আগে সাটুরিয়ার বাড়ি থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হন ওই নারী। এরপর পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, বিভিন্ন এলাকা ও থানায় খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি।
একপর্যায়ে সাটুরিয়ার বাড়ি থেকে অনেক দূরে সিঙ্গাইর উপজেলার গোবিন্দল গ্রামের রাস্তার পাশে তাকে অবস্থান করতে দেখা যায়। স্থানীয় তরুণ রবিউল হক ওই নারীকে অসহায় অবস্থায় দেখতে পান। পরে তিনি তার একটি ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে প্রকাশ করেন, যাতে পরিবারের সদস্যরা তাকে শনাক্ত করতে পারেন।
ভিডিওটি পরিবারের সদস্যদের কাছে পৌঁছালে আলী হোসেন সেটি দেখেন এবং সেখানে থাকা নারীকে নিজের স্ত্রী হিসেবে শনাক্ত করেন। এরপর দেরি না করে তিনি সিঙ্গাইরের গোবিন্দল গ্রামে ছুটে যান।
সেখানে পৌঁছানোর পর স্ত্রীও তাকে চিনতে পারেন। দীর্ঘ দুই মাস ২৩ দিন পর স্ত্রীকে সামনে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আলী হোসেন। স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার মুহূর্তে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
পরে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফেরেন আলী হোসেন। তাদের পুনর্মিলনের সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর রবিউল হক বলেন, ‘ওই নারীকে অসহায় অবস্থায় দেখে ভিডিও করে ফেসবুকে শেয়ার করেছিলাম, যেন পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ পান।’
