প্রকাশিত : ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:০১

বগুড়ায় ছাত্রদলের উদ্যোগে ৩ শতাধিক শিক্ষার্থীর ভর্তি সহায়তা দিলেন এমপি মিল্টন

ষ্টাফ রিপোর্টার
বগুড়ায় ছাত্রদলের উদ্যোগে ৩ শতাধিক 
শিক্ষার্থীর ভর্তি সহায়তা দিলেন এমপি মিল্টন
মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হওয়ার পর অনেক অভিভাবকদের কপালে যখন দুশ্চিন্তার ছাপ পরে নিজেদের সন্তানদের একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির খরচ জোগানোর চিন্তায়। তখন বগুড়ার গাবতলীর শহীদ জিয়া মডেল কলেজে একাদশ ও ডিগ্রি শ্রেণীতে ভর্তিতে নেয়া হয়েছে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ। বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এম আর হাসান পলাশসহ ছাত্রদল নেতাদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটিতে ভর্তিচ্ছু ৩০৩ জন শিক্ষার্থীর অনলাইনে ভর্তি ফরম পূরণ থেকে শুরু করে একাডেমিক ভর্তিসহ সকল খরচ নিজ তহবিল থেকে প্রদান করে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বগুড়া ৭ আসনের সংসদ সদস্য ও কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মোর্শেদ মিল্টন এমপি। প্রতিষ্ঠানটিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের কারো বাবা কৃষক আবার কারো বাবা খেটে খাওয়া দিনমজুর। কেউ বা নিজ খরচেই চালায় নিজেদের পড়াশুনা অথচ দু চোখ জুড়ে রয়েছে এই কমলমতি শিক্ষার্থীদের জীবনে বড় হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু দারিদ্রতার কষাঘাতে এদের অধিকাংশের পক্ষেই কষ্টসাধ্য ছিল মাধ্যমিকের গন্ডি পেরোনো। তবে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রান্তিক এই শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে শিক্ষা কার্যক্রমে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে জেলা ছাত্রদল। আর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এম আর হাসান পলাশের অনন্য এই উদ্যোগকে আর্থিকভাবে সার্বিক সহযোগিতা করে পূর্ণতা দিয়েছেন সংসদ সদস্য মোর্শেদ মিল্টন। বিনামূল্যে ভর্তির সুযোগ পাওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বললে তারা জানান, প্রকৃত অর্থে তাদের সহপাঠীদের অধিকাংশই দিন এনে দিন খাওয়া পরিবারের সন্তান। মাধ্যমিকের গণ্ডি পেড়োনোই তাদের কাছে অনেক বড় প্রতিবন্ধকতা। তারপরে আবার কলেজে ভর্তির পাশাপাশি নতুন বই কেনা, যাতায়াতসহ আনুষাঙ্গিক অনেক খরচ তাদের দরিদ্র পরিবারের পক্ষে ব্যয় করা সম্ভব ছিল না। এই বাস্তবতায় শহীদ জিয়া মডেল কলেজের সভাপতি ছাত্রনেতা এম আর হাসান পলাশের উদ্যোগে স্থানীয় সংসদ সদস্য যেভাবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন এতে তারা সকলেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জানা যায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি গাবতলীতে ১৯৯৯ সালে কলেজটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কিন্তু নামের কারণেই প্রতিষ্ঠানটিতে বিগত দীর্ঘ বছরের উন্নয়ন বৈষম্য যেন পিছু ছাড়েনি। প্রতিষ্ঠানটিতে আজও নেই পর্যাপ্ত শ্রেণীকক্ষ, লাইব্রেরী, ছাত্রীদের কমনরুমসহ ন্যূনতম আধুনিকতার ছোঁয়া। তারপরেও স্বল্প সামর্থ্যের মাঝেই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা স্বপ্ন দেখেন নিজেদের সেরাটা দিয়ে শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় গড়ে তোলার। তাদের প্রত্যাশা শহীদ জিয়ার নামে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটি জাতীয়করণ করা হলে বদলাবে প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো, বাড়বে শিক্ষার সুযোগ, আর উপকৃত হবে বৃহত্তর এলাকার শিক্ষার্থীরা। মানবিক এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মোসা: জান্নাতুল ফেরদৌসি বেগম জানান, মাধ্যমিকের পর শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করতে এবারের সেশনে একাদশ শ্রেণিতে প্রায় ২৫৫ জন এবং সদ্য ২ মাস হলো অনুমোদন পাওয়া ডিগ্রী শাখায় মোট ৪৮ জন শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানটিতে বিনামূল্যে ভর্তি সুযোগ পেয়েছে। গাবতলীর কৃতি সন্তান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে প্রতিষ্ঠিত তাদের কলেজটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী শিক্ষা নিশ্চিতে প্রতিনিয়ত মনিটরিং করেন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সংসদ সদস্য মোর্শেদ মিল্টন এমপি এবং ছাত্রনেতা এম আর হাসান পলাশ। তাদের পরামর্শেই এ বছর দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য অনন্য এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি প্রতিষ্ঠানটির অবশিষ্ট সকল উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এমন সৃজনশীল উদ্যোগ প্রসঙ্গে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এম আর হাসান পলাশ বলেন, গাবতলীর মাটিতে তাদের আদর্শ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে প্রতিষ্ঠিত উক্ত কলেজটি আর পিছিয়ে থাকবে না। সকলের সহযোগিতায় এই কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম সামনে আরো বেগবান করা হবে। আর্থিক অসচ্ছলতা অথবা পারিবারিক প্রতিবন্ধকতায় যেন কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর লেখাপড়া আটকে না যায় শিক্ষার প্রসারে তারা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছেন। শিক্ষার্থীদের জন্য এই প্রচেষ্টাকে পূর্ণতা দিয়েছেন তাদের অভিভাবক বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টন। তার কাছে শিক্ষার্থীদের এই সংকটের বিষয়টি উপস্থাপন করার সাথে সাথেই তিনি তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ভর্তি কার্যক্রমের সকল খরচ প্রদান করেছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা প্রদানেরও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
উপরে