প্রকাশিত : ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৫০

নারায়ণগঞ্জে পৃথক ঘটনায় কুবি শিক্ষার্থীসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নারায়ণগঞ্জে পৃথক ঘটনায় কুবি শিক্ষার্থীসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জে পৃথক ঘটনায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীসহ তিনজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনটি মৃত্যুর ঘটনায় পৃথকভাবে তদন্ত করছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন সিদ্ধিরগঞ্জের আজিবপুর এলাকার মাজেদুল ইসলাম সুমন, ৪৬, ফতুল্লার কাশিপুরের ইয়াসিন, ২১, এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলাম।

বাড়ি থেকে সুমনের মরদেহ উদ্ধার

শনিবার সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জের আজিবপুর দক্ষিণ সরদারপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে সুমনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি মহসিন ভুঁইয়ার ছেলে এবং একটি কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক ছিলেন।

সুমনের ভাই সুজন ভুঁইয়া জানান, দুই দিন আগে সুমনের স্ত্রী সাহেদা সুলতানা স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাবার বাড়িতে চলে যান।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১০টা থেকে শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে কোনো একসময় সুমনের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। পরিবারের সদস্যরা ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁরা সিলিং ফ্যানের সঙ্গে সুমনের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। ময়নাতদন্তসহ পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মারধরের অভিযোগের পর ইয়াসিনের মৃত্যু

অন্যদিকে, শনিবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে ফতুল্লার কাশিপুরের মধ্য নরসিংহপুর এলাকার হাজীপাড়ায় আব্দুর রহমান কাসেমীর বাড়ির গেটের সামনে ইয়াসিনের ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি মৃত বাচ্চু মিয়ার ছেলে এবং ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন।

পুলিশ জানায়, বাড়ি থেকে কাচ চুরির অভিযোগে শান্ত, জনি দেওয়ান ও ইমরান নামে তিন যুবক ইয়াসিনকে মারধর করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মারধরের অপমান সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অভিযোগের সত্যতা ও মৃত্যুর সঙ্গে এর সম্পর্ক তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

কুবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু, স্বামী পুলিশ হেফাজতে

এদিকে শনিবার রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকায় স্বামীর বাসা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ফারজানা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে একই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।

ফারজানার ভাই আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকে তাঁর বোনকে নির্যাতন করতেন স্বামী। চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর অর্থের জন্য চাপও বেড়ে যায়। শনিবার সন্ধ্যায় বোনের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁর মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ করেননি তিনি। পরে রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ফারজানার মৃত্যুর খবর পান।

এ ঘটনায় ফারজানার স্বামী নাজমুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, “ফারজানার মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের বিষয়টি সামনে এসেছে। তাঁর স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পৃথক তিনটি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।”

উপরে