প্রকাশিত : ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:০৪

আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ মন্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার দাবি হাসনাতের

চাঁদনী ডিজিটাল ডেস্ক রিপোর্টঃ
আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ মন্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার দাবি হাসনাতের

পুলিশের মহাপরিদর্শক বা আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত মন্তব্য প্রত্যাহার করে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ।

সোমবার ২৬ অক্টোবর বিকেলে রাজধানীর মুগদায় আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে তিনি এ দাবি জানান।

আইজিপির বক্তব্যের সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আইজিপিকে তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। তা না হলে তাঁরা ধরে নেবেন, তারেক রহমানের নির্দেশে তিনি এ বক্তব্য দিয়েছেন। আর তাঁর বক্তব্য তারেক রহমানের নির্দেশে দেওয়া না হয়ে থাকলে অবিলম্বে তা প্রত্যাহার করে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

আইজিপির মন্তব্যের মাধ্যমে পুরো পুলিশ বাহিনীকে অপমান করা হয়েছে দাবি করে এনসিপির এই নেতা বলেন, পুলিশ বাহিনী ঘুরে দাঁড়িয়ে জনগণের পুলিশ হতে চায়। কিন্তু আইজিপি পুলিশ বাহিনীকে আবার লাঠিবাহিনী, ক্রসফায়ারের বাহিনী ও চাঁদাবাজের বাহিনীতে পরিণত করতে চাইছেন।

পুলিশের নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা ও সদস্যদের উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “প্রিয় পুলিশ ভাই-বোনেরা, আপনাদের অনুরোধ করব—এই আইজিপির কথা আপনাদের শোনার দরকার নেই। এই আইজিপি আসবেন-যাবেন। নিম্নপদস্থ পুলিশ সদস্যদের ব্যবহার করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেন। তাঁদের রক্ত ও পোশাক বিক্রি করে কর্মকর্তারা বিদেশে বাড়িঘর তৈরি করেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা আহ্বান জানাব, আপনারা এই আইজিপির স্বার্থের বলি হবেন না এবং কোনো অবৈধ আদেশ মানবেন না। জনগণ যখন ঘুরে দাঁড়ায়, তখন লাঠি বা বারুদ দিয়ে জনতা ঠেকানো যায় না।”

সমাবেশে আইজিপির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগও তোলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর দাবি, আইজিপির বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার অভিযোগ রয়েছে। তবে বক্তব্যে এসব অভিযোগের সমর্থনে তিনি কোনো দাপ্তরিক প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, দেশে জনগণের নিরাপত্তা নেই, এমনকি পুলিশ ও মন্ত্রীরাও নিরাপদ নন। মন্ত্রী, চাঁদাবাজ ও ডাকাতদের অস্ত্র নিয়ে চলাফেরার প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, “চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরাই কি মন্ত্রী হয়েছে, নাকি মন্ত্রীরা সন্ত্রাসী হয়েছে?”

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও দাবি করেন, রাত ৯টার পর ঢাকা শহরে মানুষ বের হতে সাহস পায় না। বের হলে জামাকাপড় খুলে রেখে দেওয়া হয়। খুলনায় নিরাপত্তার অভাবে পুলিশও বের হতে ভয় পায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

উপরে