টেলিগ্রামভিত্তিক প্রতারণা চক্রের ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, উদ্ধার ৫১ হাজারের বেশি সিম
রাজধানীর বসুন্ধরা ও উত্তরা পশ্চিম থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভিওআইপি গেটওয়ের মাধ্যমে পরিচালিত একটি প্রতারণা চক্রের পর্দা ফাঁস করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। অভিযানে বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের ৫১ হাজারের বেশি সিম, মোবাইল ফোন ও ভিওআইপি গেটওয়ে সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ৫ জন চীনা নাগরিকসহ মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি সূত্র জানায়, প্রতারক চক্রটি টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রুপ খুলে ঘরে বসে কাজ, জব অফার ও বিভিন্ন লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলত। পরে ভিওআইপি গেটওয়ের মাধ্যমে যোগাযোগ করে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির ডিসি (সাইবার) উত্তর হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার।
তিনি বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগ পাচ্ছি। জিডি ও মামলার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, অভিযানে একটি বাসা থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের ৫১ হাজার ২৫১টি সিম, ২১টি ভিওআইপি জিএসএম গেটওয়ে মেশিন, ৫টি ল্যাপটপ, ৪৭টি মোবাইল ফোন ও ২টি সিপিইউ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ডিভাইসগুলোতে চীনা সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছিল বলেও জানান তিনি।
গ্রেপ্তাররা হলেন—
চীনা নাগরিক চেন লিং ফেং, জেং কং, জেং চাংকিয়াং, ওয়েন জিয়ান কিউ, হুয়াং ঝেং জিয়াং এবং বাংলাদেশি নাগরিক মো. জাকারিয়া (২৬), নিয়াজ মাসুম (২০) ও কামরুল হাসান ওরফে হাসান জয় (৩৮)।
ডিবি কর্মকর্তা জানান, এ ধরনের অনলাইন ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণা রোধে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
