অজানা বিশ্ব জানতে শেরপুরে এমন বইমেলা বারবার চান অভিভাবকেরা
বগুড়ার শেরপুর সরকারি ডি জে মডেল হাইস্কুল খেলার মাঠে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের আয়োজনে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা। রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল থেকেই মাঠের এক কোণে তাঁবুর নিচে সারিবদ্ধভাবে সাজানো বুকশেলফ এ ভিড় জমাতে শুরু করেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ নানা বয়সী মানুষ।
রোববার বিকেল ৫টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই মেলার উদ্বোধন করেন শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইদুজ্জামান হিমু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাবলু, সিনিয়র সহ-সভাপতি পিয়ার হোসেন পিয়ার, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিন্টু, পৌর বিএনপির সভাপতি স্বাধীন কুমার কুন্ডু, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহম্মেদ জুয়েল, টাউন ক্লাব মহিলা অনার্স কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, সরকারি ডিজে উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আখতার উদ্দিন বিপ্লব, শেরপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুসাইদ সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
আয়োজকরা জানান, মেলায় দেশের বিভিন্ন লেখকের অন্তত ১০ হাজার বই স্থান পেয়েছে। প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মেলা চলবে আগামী মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পর্যন্ত।
বইমেলায় বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের এই মেলার ইনচার্জ অমিত চক্রবর্তী জানান, “তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষকে বইমুখী করাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। একটি সভ্য জাতি গঠন এবং মানুষের মননশীলতার বিকাশে বই পড়ার বিকল্প নেই। সারা দেশের সব উপজেলায় এ ধরনের আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র।”
বিক্রয় ও বিপণন কর্মী রুবেল রানা জানান, মেলার দিনগুলোতে বইয়ের নির্ধারিত মূল্যের ওপর ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দর্শনার্থীদের সমাগম আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মেলায় আসা কলেজ রোডের বাসিন্দা শবিতা রানী জানান, তিনি তার তিন সন্তানকে নিয়ে মেলায় এসেছেন। তিনি চান তার সন্তানরা বইয়ের মাধ্যমে অজানা বিশ্বকে জানুক এবং এলাকায় এমন আয়োজন মাঝে মাঝেই হোক।
বইয়ের সেলফএ নিজেদের পছন্দের বই খুঁজছিল মজিবর রহমান মজনু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোছা. আঁখি আক্তার এবং ষষ্ঠ শ্রেণির কায়ফা, ইসরাত জাহান সমাপ্তি, অর্পিতা ও সাবরিনা। তারা জানায়, পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি মেলায় এসে পছন্দের গল্পের বই পড়তে তাদের খুব ভালো লাগছে। ইতিমধ্যে তারা বেশ কয়েকটি বই পছন্দ করে রেখেছে এবং আগামীকাল কিনবে।
আয়োজক সূত্র আরও জানায়, মেলার দ্বিতীয় দিন সোমবার (৬ এপ্রিল) মেলা চত্বরে শিশু শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। চিত্রাঙ্কনের বিষয়বস্তু হিসেবে থাকছে, যেমন খুশি আঁকো, গ্রামের দৃশ্য, ভাষা আন্দোলন ও জেলার ইতিহাস। মেলার শেষ দিন মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।
