প্রকাশিত : ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০০:১৬

কুরআন শিক্ষিকা বৃদ্ধা সালেহা বেওয়ার পাশে ‘মানবতার ডাক্তার’

আশ্রমে মিলল মাথা গোঁজার ঠাঁই, মিলছে খাবার ও চিকিৎসা
নিজস্ব প্রতিবেদক
কুরআন শিক্ষিকা বৃদ্ধা সালেহা বেওয়ার পাশে ‘মানবতার ডাক্তার’

বাড়ি বাড়ি গিয়ে কুরআন শিক্ষা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা ৮০ বছর বয়সী সালেহা বেওয়ার জীবনে অবশেষে স্বস্তির ছোঁয়া ফিরেছে। দীর্ঘদিনের কষ্টের পর এবার তিনি পেয়েছেন নিরাপদ আশ্রয়। মানবতার ডাক্তার হিসেবে পরিচিত পল্লি চিকিৎসক মো. সেবিন তার দায়িত্ব নেওয়ায় নতুন ঠিকানা মিলেছে এই বৃদ্ধার।

এর আগে সালেহা বেওয়া ও তার প্যারালাইজড ছেলেকে নিয়ে একটি জাতীয় গণমাধ্যমে হৃদয়স্পর্শী প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি জনমনে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

পরবর্তীতে উদ্যোগ নিয়ে সালেহা বেওয়া ও তার ছেলেকে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার রামচন্দ্রপুর বাজার এলাকায় অবস্থিত ‘ওল্ড অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার হোম’ আশ্রমে নিয়ে যাওয়া হয়। এখন থেকে সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন এবং নিয়মিত খাবার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাবেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বগুড়া শহরের কর্ণপুর এলাকায় খোলা আকাশের নিচে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছিলেন মা ও ছেলে। প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাদের থাকার মতো কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা ছিল না।

আশ্রমে ঠাঁই পাওয়ার পর আবেগাপ্লুত হয়ে সালেহা বেওয়া বলেন, “সারাজীবন মানুষের ঘরে ঘরে কোরআন পড়াইছি। আজ মাথা গোঁজার ঠাঁই পাইছি। আল্লাহ ওনাদের ভালো করুক।”

সালেহার ছোট ছেলে রহিম শেখ জানান, সংবাদ প্রকাশের পর অনেকেই তাদের খোঁজ নিতে শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত আশ্রমে জায়গা পাওয়ায় এখন তাদের দুশ্চিন্তা অনেকটাই দূর হয়েছে।

আশ্রমটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো. সেবিন বলেন, “সংবাদে তাদের দুর্দশার কথা দেখে আমি নিজেকে স্থির রাখতে পারিনি। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি।”

তিনি আরও জানান, তার নিজস্ব উদ্যোগে পরিচালিত এই আশ্রমে ইতোমধ্যে বহু অসহায় ও বৃদ্ধ মানুষ আশ্রয় পেয়েছেন। তবে আশ্রমটি বর্তমানে প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে। সরকারি বা বেসরকারি সহযোগিতা পেলে আরও বেশি মানুষকে সহায়তা করা সম্ভব হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকার কারণেই সালেহা বেওয়া ও তার অসুস্থ ছেলের শেষ বয়সে একটি নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত হয়েছে।

উপরে