গবেষণায় জানা গেল—শীতে প্রতিদিন গোসল করা মোটেও নিরাপদ নয়
শীতকাল এলেই গোসল নিয়ে দ্বিধা শুরু হয়। ঠান্ডার কারণে গোসলের আগ্রহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি এ সময় ত্বক হয়ে ওঠে বেশি শুষ্ক ও সংবেদনশীল। অনেকেই পরিষ্কার থাকার কথা ভেবে প্রতিদিন গোসল করলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে অতিরিক্ত গোসল ত্বকের জন্য উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, শীতকালে নিয়মিত গরম বা ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে ত্বক দ্রুত তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারায়। বিশেষ করে গরম পানি ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট করে দেয়, ফলে ত্বক হয়ে ওঠে রুক্ষ ও নিষ্প্রাণ। এমনকি প্রতিদিন গরম পানিতে গোসলের অভ্যাস হজমের গোলযোগ বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যাও বাড়াতে পারে।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবদেহের ত্বকের নিজস্ব একটি প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। দৈনন্দিন ধুলাবালি ছাড়া এক–দুই দিনে ত্বক খুব বেশি অপরিষ্কার হয়ে পড়ে না। বরং শীতকালে ত্বকে থাকা কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়া ত্বকের আর্দ্রতা ও ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। প্রতিদিন গোসল করলে এসব উপকারী ব্যাকটেরিয়া নষ্ট হয়ে যেতে পারে, যার ফলে ত্বক ফাটা, অতিরিক্ত শুষ্কতা ও চুলকানির ঝুঁকি বাড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতের সময় সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার গোসল করলেই শরীর পরিষ্কার ও সুস্থ রাখা সম্ভব। গোসলের পানির তাপমাত্রা খুব বেশি গরম না করে স্বাভাবিক পানির সঙ্গে অল্প গরম পানি মিশিয়ে ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
প্রতিদিন গরম পানিতে গোসল নখের জন্যও ক্ষতিকর। গরম পানির সংস্পর্শে নখ ফুলে যায়, দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজেই ভেঙে যেতে পারে। তাই গোসলের সময় ১০ মিনিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
বোস্টনের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ড. র্যানেল্লা হির্সচ বলেন, অনেকেই সামাজিক অভ্যাসের কারণে প্রতিদিন গোসল করেন, প্রকৃত প্রয়োজনের জন্য নয়। যদি অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, ঘাম বা নোংরা পরিবেশে কাজ না থাকে, তাহলে শীতে প্রতিদিন গোসল জরুরি নয়।
শীতকালে সুস্থ ত্বকের জন্য প্রয়োজন বেশি গোসল নয়; বরং গোসলের সংখ্যা কমানো, পানির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ত্বকের স্বাভাবিক ছন্দকে সম্মান করাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর যত্ন।
