ভারতে বিতর্কিত নতুন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে দিল্লির গভর্নর অনিল বাইজালের কাছে স্মারকলিপি জামা দিয়েছেন কৃষকরা। শনিবার এ স্মারকলিপি জমা দেয় দেশটির কৃষক সংগঠনগুলো। এছাড়া শনিবার দেশটিতে পালন করা হয়েছে ‘কৃষি বাঁচাও গণতন্ত্র বাঁচাও’ দিবস। কারণ শনিবার ভারতে কৃষক আন্দোলন শুরু হওয়ার সপ্তম মাস পূর্ণ হলো। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এখনও মিলেনি কোনো ধরনের আশ্বাস।
সংযুক্ত কৃষক মোর্চা ও অখিল ভারতীয় কৃষক সংঘর্ষ সমন্বয় সমিতি এ আন্দোলনের ডাক দেয়। যাতে সাড়া দেয় বহু কৃষক। গাজীপুরে দিল্লি সীমান্তে হাজারেরও বেশি ট্র্যাক্টর নিয়ে বিক্ষোভ দেখায় কৃষকরা। ভারতীয় কৃষক ইউনিয়ন নেতা গৌরভ টিকায়েত জানিয়েছেন, নতুন কৃষি আইনের যে তিনটি ধারা কৃষকদের স্বার্থের পরিপন্থী সেগুলো প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
আন্দোলনকারীরা বলছে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের আনা কালা কৃষি আইন ও বিদ্যুৎ (সংশোধনী) বিল ২০২০ প্রত্যাহারের দাবিতে মাঠে নেমেছে তারা। সংগঠনগুলোর দাবি, কৃষকদের সঙ্গে পরামর্শ না করে একতরফা কৃষক স্বার্থবিরোধী ও বহুজাতীয় কর্পোরেট স্বার্থপন্থী তিনটি কালা আইন করেছে সরকার।
ভারতে কৃষকদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছে দেশটির বুদ্ধিজীবী থেকে শুরু করে বেশিরভাগ সাধারণ মানুষ। কৃষকরা বলছে, আন্দোলনকারী ও সমর্থকদের গ্রেফতারের মাধ্যমে হয়রানি করছে প্রশাসন।
নতুন এই আইনের ফলে কৃষিপণ্য বিক্রয়, মূল্য নির্ধারণ ও গুদামজাত করণের নিয়মে পরিবর্তন আসবে। গত বছর সেপ্টেম্বরে ভারত সরকার তিনটি নতুন কৃষি আইন পাস করার পর হাজার হাজার কৃষক এর বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন। কৃষকদের দাবি, এই আইন তাদের জীবিকায় আঘাত হানবে এবং শুধু বড় কর্পোরেশনগুলোই এতে লাভবান হবে।
এরআগে জানুয়ারিতে তিনটি বিতর্কিত কৃষি আইন স্থগিত রাখার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল দেশটির শীর্ষ আদালত। শনিবার (২৬ জুন) ভারতে কৃষক আন্দোলনের ৭ মাস পূর্ণ হলো। ১৯৭৫ সালে ওই দিনে ভারতজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। তাই দিনটির নাম দেয়া হয়েছে ‘কৃষি বাঁচাও গণতন্ত্র বাঁচাও দিবস’।
সূত্র: আউটলুক ইন্ডিয়া
দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন