নন্দীগ্রামে জিন্নাহ’কে দল থেকে বহিস্কার দাবি করলো নৌকার ৪ প্রার্থী | Daily Chandni Bazar নন্দীগ্রামে জিন্নাহ’কে দল থেকে বহিস্কার দাবি করলো নৌকার ৪ প্রার্থী | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ৩০ নভেম্বর, ২০২১ ২১:২৯
নন্দীগ্রামে জিন্নাহ’কে দল থেকে বহিস্কার দাবি করলো নৌকার ৪ প্রার্থী
বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষ নেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ

নন্দীগ্রামে জিন্নাহ’কে দল থেকে বহিস্কার দাবি করলো নৌকার ৪ প্রার্থী

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে বগুড়ার নন্দীগ্রামে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী দেওয়ার অভিযোগ এনে উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল আশরাফ জিন্নাহকে দল থেকে বহিস্কার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নৌকার ৪ প্রার্থী। 

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন নন্দীগ্রাম সদর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মখলেছুর রহমান মিন্টু, ভাটরা ইউনিয়নের প্রার্থী মোরশেদুল বারী, থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়নের প্রার্থী হাফিজুর রহমান নান্টু ও ভাটগ্রাম ইউনিয়নের প্রার্থী জুলফিকার আলী। তারা অভিযোগ করেন, নৌকার বিরুদ্ধে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করিয়েছেন রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ। ভাটরা ইউনিয়নে নৌকা ঠেকাতে প্রয়োজনে উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে ইউনিয়ন পরিষদে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়া জিন্নাহর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ইউপি নির্বাচনে নৌকার পরাজয় হলে সকল দায়ভার রেজাউল আশরাফ জিন্নাহকে নিতে হবে। তাকে দল থেকে বহিস্কারের দাবি জানান ৪ প্রার্থী। 
ভাটগ্রাম ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জুলফিকার আলী লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২৬ ডিসেম্বর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের ৪ জনেক নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য মনোনীত করেন। শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন জিন্নাহ। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বিব্রত অবস্থায় পড়েছে। অনেক নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। 
জুলফিকার আলী সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন, দলীয় সকল কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে আতাত করে রাজনীতি করেন জিন্নাহ। ২০০৯ এবং ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এই সুযোগে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন জামায়াতের আমীর। জিন্নাহর পছন্দের প্রার্থী মনোনয়ন না পেলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ভোট করেন। এবারও দলের বিরুদ্ধে ও নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করছেন। ইতিপূর্বের সকল ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা ও সংসদ নির্বাচনে প্রকাশ্যে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। 
এ প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ বলেন, আমি নৌকার বিপক্ষে কোথাও কোনো প্রচারণা করছি না। নৌকার পক্ষে ভোট চাচ্ছি। আমার বিরুদ্ধে কেন তারা সংবাদ সম্মেলন করেছে, আমার জানা নেই। 

দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন