শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে বগুড়া শহরের ফাঁপোড় ইউনিয়নের কৈচড় বধ্যভূমিতে মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় আলোচনা সভা এবং প্রতিবছরের ন্যায় সন্ধ্যায় মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত সভা এবং মোমবাতি প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা প্রশাসক মো: জিয়াউল হক এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বিপিএম। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীরা নিজেদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে বাংলাদেশকে মেধাশূণ্য করতে ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর সুপরিকল্পিতভাবে এদেশের গুণী ব্যক্তিদের নির্বিচারে হত্যা করে যা ইতিহাসে কলঙ্কমাখা একটি দিন। জাতির সূর্যসন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে তিনি বলেন এই দেশের স্বাধীনতা অর্জনের যাত্রায় তাদের যে অবদান তা আজীবন বাঙালি জাতিকে স্মরণে রাখতে হবে। শুধু তাই নয় মহান মুক্তিযুদ্ধের এই ত্যাগ ও গৌরবময় ইতিহাস সম্পর্কেও যুগের পর যুগ সকল প্রজন্মকেও জানতে হবে। এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আব্দুর রশিদ, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান সফিক, সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নুরুল ইসলাম, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সুলতান মাহমুদ খান রনি, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বগুড়ার সাবেক কমান্ডার রুহুল আমিন বাবলু, বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: সেলিম রেজা এবং ফাঁপোর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহররম আলী প্রমুখ।
প্রতিবছরের ন্যায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্যে বগুড়ার এই বধ্যভূমিতে আসেন সকল শ্রেণীপেশার মানুষ এইবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। শ্রদ্ধা জানাতে আসা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী সাজেদুর রহমান এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, তাদের প্রজন্মের কেউ তো মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি তবে এই স্থানে আসলে কিছুটা হলেও বুঝতে পারে লাল সবুজের এই পতাকা অর্জনে কত মানুষ হাসিমুখে নিজেদের তাজা রক্ত বিলিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে তিনি পরিচয় দিতে পারেন এই পরিচয় যারা এনে দিয়েছে জাতির পিতাসহ শহীদ বুদ্ধিজীবীরা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সকলের প্রতি তিনি তাদের প্রজন্মের সকলের পক্ষে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
উল্লেখ্য, বগুড়া সদর উপজেলার ফাঁপোর ইউনিয়নের কৈচড় বধ্যভূমিতে ২৬ জন শহীদ শায়িত আছেন তাঁরা হলেন চেলোপাড়ার কালিপদ সিংহ, কর্ণ প্রসাদ সিংহ, গজেন্দ্রনাথ সিংহ, শ্যামল চন্দ্র সিংহ, শ্রীবাস দাম, গোলক চন্দ্র দাম, ননী চন্দ্র দাম, নিতাই চন্দ্র দাম, পল্লাদ চন্দ্র দাম, সুধাংশু চন্দ্র দাম ও সুধীর চন্দ্র দাম, ধোপাপাড়ার গুপি চন্দ্র দাম, গোবিন্দ মহন্ত, নিতাই চন্দ্র দাম ও হরি দত্ত, রঘুনাথপুরের গনেশ চন্দ্র ও বিনয় চন্দ্র সাহা, ডোমন গ্রামের নগেন্দ্র নাথ সাহা, নারায়ণ চন্দ্র প্রাং হীরেন্দ্র নাথ সাহা এবং কাটনারপাড়ার গৌর গোপাল মহন্ত। এছাড়াও ৫ জনের নাম ও ঠিকানা আজও পাওয়া যায় নি।
দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন