বগুড়া গাবতলীর ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলাকে ঘিরে গতকাল বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে বউমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলায় নারীদের পদচারনায় ছিলো উপচেপড়া ভীড়। নারীরা ইচ্ছামত কেনাকাটা ও মেলার আনন্দ উপভোগ করেছে। মেলায় শতাধিক কস্মেটিকস্সহ বিভিন্ন খেলনার দোকান বসেছিল। বগুড়া শাজাহানপুর থেকে বউমেলায় আসা সামিয়া আকতার তার বান্ধবী রিয়াকে নিয়ে তার খালার বাড়ীতে মেলা উপলক্ষে বেড়াতে এসে মেয়েদের জন্য চুড়ি ও অন্যান্য খেলনা কিনেছেন। বউমেলায় এসে খুব আনন্দ উপভোগ করেছেন। নওগাঁ জেলার রানীনগর থানার গৃহীনি জোসনা বেগম প্রতিবছর তার বাবার বাড়ী বেড়াতে এসে সে বউ মেলায় সন্তানদের জন্য কেনাকাটা করছেন বলে জানান। বগুড়া উত্তর চেলোপাড়া হতে মেয়েদের জন্য হরেক রকমের কসমেটিকস্ বিক্রি করতে আসা রোজিনা, কাকুলী ও সোনাভান জানান, তারা গতবছরের মতো এবারেও বউমেলায় বিক্রি করতে এসেছেন। বিক্রিও করেছেন অনেক। পাবনার বাগমারা থানার লিখন প্রায় ১০বছর আগে থেকে চুরি-ফিতা ও কসমেটিকস্ বিক্রি করে আসছেন তাতে তিনি অনেক লাভবান হয়েছেন।
মেলায় আসা বাঁশি বিক্রেতা শহীদুল ও চেলোপাড়ার খেলনা বিক্রেতা সুমন জানান, নারীদের উপস্থিতি বেশি থাকায় বিক্রি ভালোই হয়েছে। মাটির জিনিস বিক্রেতা স্থানীয় মহিষাবান পালপাড়ার অতুল চন্দ্র পাল জানান, বাড়ীর কাছাকাছি মেলা হওয়ায় তিনি বেশ খুশি। বিকেলের মধ্যেই তিনি দুই হাজার টাকার মাটির জিনিস বিক্রি করেছেন। চেলোপাড়া বটতলার ফুসকা বিক্রেতা আকবর জানান, ব্যতিক্রমধর্মী এই বউমেলায় এবারেই তিনি প্রথম এসেছেন। ফুচকা খুব বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় মহিষাবান পাড়ানীপাড়া হতে নাগরদোলা ও চরকি নিয়ে আসা মাসুদ রানা ও ওয়াজেদ জানান, বড় ও ছোট্ট মেয়েদের সকলের নাগরদোলা ও চরকি খুব পছন্দ। তারা এই বউ মেলায় নাগরদোলা ও চরকিতে চরিয়ে একেক জন ৬/৭ হাজার টাকা উপার্জন করেছেন। অবুঝ শিশুদের আনন্দ দিতে পেরে তারা আনন্দিত। বউমেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় যুবকদের সহায়তার কারণেই প্রতিবছর মেলাটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা হয়। গাবতলীর ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলার ঠিক পরের দিন বৃহস্পতিবার এই বউমেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। বিগত ২৮বছর আগে থেকে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। গাবতলীর ত্রি-মোহিনী পশ্চিম মহিষাবান গ্রামে দিনব্যাপী বউমেলা চলাকালে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সমাজসেবক জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান দুলু। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার রহমান শান্ত এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুস সালাম ভুলন। আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আলমগীর হোসেন স্বপন, জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি নাছিরুজ্জামান টিটো, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সহ-সভাপতি নিকুঞ্জ কুমার পাল এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফারুক আহম্মেদ ফারুক। ফারহা রহমান স্মৃতির পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মিলটন হোসাইন প্রমুখ।
দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন