গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকায় জীবন চন্দ্র বিশ্বাস (২৮) খুন হওয়ার ঘটনায় সহকর্মী রবিউল আলম হৃদয়কে (২৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডি জানায়, বড় ভাইয়ের সনদ দিয়ে চাকরি নেন হৃদয়। বিষয়টি জানতে পেরে হৃদয়ের সহকর্মী জীবন ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। অন্যথায় বিষয়টি ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেন। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে জীবনকে খুন করেন হৃদয়।
মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগ সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মুক্তা ধর এসব কথা জানান।
তিনি জানান, গত ১০ ফেব্রুয়ারি শ্রীপুরের ধানুয়া উত্তরপাড়া এলাকায় সহকর্মীর ছুরিকাঘাতে জীবন চন্দ্র বিশ্বাস (২৮) খুন হন। মামলাটি তদন্তের ধারাবাহিকতায় ঘটনার সঙ্গে রবিউল আলম হৃদয়ের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
পরে সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে নেত্রকোনা সদর থানাধীন হোসেনপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার হৃদয়কে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে এসএসপি মুক্তা ধর জানান, হৃদয় তার বড় ভাই শফিকুল আলম জয়ের এসএসসি ও এইচএসসির সনদ দিয়ে আশুলিয়ার একটি কোম্পানিতে সিকিউরিটি গার্ডের কোর্স করেন। পরে ময়মনসিংহের ভালুকায় ‘দি অ্যাপারেলস ইস্ট জামিরদিয়া’ নামের একটি পোশাক কারখানায় গার্ড হিসেবে প্রায় ৮ মাস কাজ করেন।
একপর্যায়ে গাজীপুরের শ্রীপুরে ‘হাজী বাড়ি প্ল্যান্ট’ নামের একটি হাঁস-মুরগির খামারে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে প্রায় দুই মাস ধরে কাজ করছিলেন হৃদয়। সেখানেই সহকর্মী জীবনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। কোম্পানির চার রুমের ভাড়া করা বাসায় হৃদয় ও জীবন একসঙ্গে থাকতেন।
ঘটনার দিন হঠাৎ হৃদয়ের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন জীবন। অন্যথায় ভাইয়ের সনদের বিষয়টি ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেন। এ নিয়ে বিতণ্ডার জেরে ছুরিকাঘাত করে জীবনকে খুন করেন হৃদয়।
দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন