‘দোকান তো পুড়ে নাই, পুড়ছে আমাগো কপাল’ | Daily Chandni Bazar ‘দোকান তো পুড়ে নাই, পুড়ছে আমাগো কপাল’ | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২২ ১৫:৪৮
‘দোকান তো পুড়ে নাই, পুড়ছে আমাগো কপাল’
অনলাইন ডেস্ক

‘দোকান তো পুড়ে নাই, পুড়ছে আমাগো কপাল’

‘দোকান তো পুড়ে নাই, পুড়ছে আমাগো কপাল। করোনায় বেচাকেনা কমায় বেতন এমনিতেই কম পাইতাম। পুড়ে যাওয়া দোকান কবে চালু আবার অইবো তার ঠিক নাই, এখন করুম কী, খামু কী?’

বুধবার সকাল পৌনে ৮টায় রাজধানীর নীলক্ষেত মোড়ের শাহজালাল বইয়ের মার্কেটের সামনের রোড ডিভাইডারের সামনে দাঁড়িয়ে এ কথা বলছিলেন শাহাদাত হোসেন নামের এক দোকান কর্মচারী।

তার পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা মিলন নামের আরেক দোকান কর্মচারী জানালেন, তার মালিকের দোকানে বাংলা ও ইরেজি আনকমন সব বইয়ের মজুত ছিল। এর অর্ধেক আগুনে পুড়ছে আর বাকি অর্ধেক পানিতে ভিজে নষ্ট হইছে।

এ সময় মিলনকে গলির মুখে দোকানে ঢুকে সেলফ থেকে ভিজে যাওয়া বই নামাতে দেখা যায়।

বুধবার সকালে রাজধানীর নীলক্ষেতে শাহজালাল বইয়ের মার্কেটের সামনে গিয়ে দেখা যায় বেশ কিছু মানুষের জটলা। তাদের কেউ দোকান কর্মচারী আবার কেউ উৎসুক জনতা। দোকান কর্মচারীদের কেউ কেউ ভেতরে ঢুকে দোকানের নীচতলা ও দোতলায় পুড়ে ও ভিজে যাওয়া বই নামাচ্ছিলেন। উৎসুক জনতার কেউ রাস্তায় পড়ে থাকে পোড়া বইয়ের দিকে তাকিয়ে কীভাবে আগুন লাগলো, কত টাকার ক্ষতি হলো এসব বিষয়ে আলাপ আলোচনা করছিলেন। এ সময় রাস্তায় চলমান বিভিন্ন ধরনের যানবাহন থেকেও লোকজনকে উঁকি মেরে পুড়ে যাওয়া বইয়ের মার্কেটের ধ্বংসস্তূপ দেখার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে একাধিক দোকান মালিকের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, নীলক্ষেত এলাকার প্রায় পুরোটা জুড়েই বইয়ের মার্কেট। মঙ্গলবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় অধিকাংশ দোকান বন্ধ ছিল। কিছু দোকানি সামান্য বেচাকেনার আশায় দোকান খোলা রেখেছিলেন।

তারা জানান, ফায়র সার্ভিস কর্মীদের তৎপরতার কারণে মার্কেটের শত শত দোকান পোড়া যায়নি। তা নাহলে আরও বড় ক্ষতি হয়ে যেত।

মঙ্গলবার রাত আনুমানিক পৌনে ৭টায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় নীলক্ষেত এলাকার রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। নিরাপত্তাজনিত কারণে গোটা এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করে দেওয়া হয়।

দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন