ত্রিপুরায় ১০ বছরের শিশুর সফল ওপেন হার্ট সার্জারি | Daily Chandni Bazar ত্রিপুরায় ১০ বছরের শিশুর সফল ওপেন হার্ট সার্জারি | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ৩ মার্চ, ২০২২ ১৫:৫২
ত্রিপুরায় ১০ বছরের শিশুর সফল ওপেন হার্ট সার্জারি
অনলাইন ডেস্ক

ত্রিপুরায় ১০ বছরের শিশুর সফল ওপেন হার্ট সার্জারি

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ১০ বছরের এক কন্যাশিশুর সফলভাবে ওপেন হার্ট সার্জারি করা হয়েছে। রাজ্যের জিবিপি হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জন ডা. কনক নারায়ণ ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী এ সার্জারি করা হয়। ত্রিপুরায় এই প্রথম কোনো শিশুর ওপেন হার্ট সার্জারি করা হলো।

সার্জারি টিমে ছিলেন অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ডা. সুরজিৎ পাল, পারফিউসানিস্ট (হার্ট-লাং যন্ত্র পরিচালক) সুজন সাহুসহ ১২ সদস্য। অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে শিশুটির অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির বাড়ি ত্রিপুরার অমরপুরে। জন্মের পর থেকেই সে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। সামান্য পরিশ্রমে সে ক্লান্ত হয়ে পড়তো সে। তবে আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে শিশুটির উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করাতে পারছিলেন না তার কৃষক বাবা।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি ওই শিশুর শারীরিক সমস্যা বাড়তে থাকায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানী আগরতলার জিবিপি হাসপাতালে। শুরু হয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা। পরে চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন, জন্মসূত্রেই তার হার্টের ডান ও বাম অলিন্দের প্রাচীর নেই। এ অবস্থায় শরীরে দূষিত ও পরিশোধিত রক্ত মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছিল। যে কারণে তড়িঘড়ি চিকিৎসকরা তাকে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী- ২৪ ফেব্রুয়ারি আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ (এজিএমসি) অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালের কার্ডিও থোরাসিক অ্যান্ড ভাসকুলার অ্যান্ড ইন্টারভেনশনাল রেডিওলজি (সিটিভিএস অ্যান্ড আইআর) ডিপার্টমেন্টে ১০ বছরের শিশুটির সফল ওপেন হার্ট সার্জারি করা হয়।

জানা গেছে, শিশুটি একটি স্থানীয় বিদ্যালয়ের হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করছিল। সে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। আবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খেলাধুলা করার সময় তার অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট হওয়ার বিষয়টি প্রথমে শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিষয়টি জানতে পরে অভিভাবক তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়।

শিশুটির বাবা-মা প্রথমে বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তবে কোনোভাবে অর্থ সংকুলান করতে পারছিলেন না। বাধ্য হয়ে জিবিপি হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে এবং সেখানেই সফলভাবে সার্জারি করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে তাদের মেয়ে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) বিকেলের মধ্যেই হাসপাতাল থেকে ছুটি মিলতে পারে শিশুটির।

দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন