৯ বছর পর আগামি ২৩ মার্চ ক্ষেতলাল আ.লীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে । | Daily Chandni Bazar ৯ বছর পর আগামি ২৩ মার্চ ক্ষেতলাল আ.লীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে । | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১২ মার্চ, ২০২২ ২২:৫১
৯ বছর পর আগামি ২৩ মার্চ ক্ষেতলাল আ.লীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ।
সুমন কুমার সাহা,ব্যুরো প্রধান, জয়পুরহাট:

 ৯ বছর পর আগামি ২৩ মার্চ ক্ষেতলাল আ.লীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ।

প্রায় ৯ বছর পর জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ২৩ শে মার্চ ক্ষেতলাল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে সম্ভাব্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীরা  নেতাকর্মীদের কাছে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। দলের দুঃসময়ের ত্যাগী, পরিক্ষিত ও ক্লিন ইমেজ সম্পন্ন ব্যক্তিদের নেতা হিসেবে চাচ্ছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। স্থানীয় নেতাকর্মীদের চাওয়া প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমেই যোগ্য ব্যক্তিরা নেতা নির্বাচিত হোক।
দলীয় সূত্র ও সরেজমিনে জানা গেছে, ২০১৩ সালে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি -বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে সভাপতি পদে দু’জন প্রার্থী ছিলেন। সমোঝতার ভিত্তিতে খলিলুর রহমানকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয় এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় সিরাজুল ইসলাম সরদার নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠণ ও দলীও আভ্যন্তরিন কোন্দলকে কেন্দ্র করে পর্যায়ক্রমে তিনটি গ্রুপের তিনটি কমিটির তালিকা জেলা আওয়ামী লীগকে অনুমোদনের জন্য দিলে খলিলুর রহমানকে সভাপতি ও সিরাজুল ইসলাম সরদারকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬৭ সদস্যের ক্ষেতলাল উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি কমিটি ২০১৩ সালের ২৭ শে সেপ্টেম্বর তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক চুরান্ত অনুমোদন দেন। পরে ২০১৭ সালে খলিলুর রহমান মারা গেলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে জৈষ্ঠ্য ছিলেন উক্ত কমিটির সহ-সভাপতি তাইফুল ইসলাম তালুকদার । তিনি ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করলে তাকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তিতে সাংগঠনিক দক্ষতার ভিত্তিতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন  সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ মোল্লা। উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন উপলক্ষ্যে গতকাল ১২ ই মার্চ বর্ধিতসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২৩ মার্চ এ সম্মেলনকে ঘিরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৮ জন সাম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে।  সভাপতি প্রার্থীদের মধ্যে, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে জনপ্রিয় ও এগিয়ে আছেন দুঃসময়ের ত্যাগী, কর্মী বান্ধব ও পরিক্ষিত নেতা বর্তমান কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল মজিদ মোল্লা। সভাপতি পদে বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি ত্যাগী ও দুঃসময়ের নেতা হিসেবে মোফাজ্জল হোসেনের নামও শোনা যাচ্ছে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্র্বাচনে পরাজিত সহ-সভাপতি তাইফুল ইসলাম তালুকদার ও তার ভাতিজা আলমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুজ্জামান তালুকদার নাদিম তাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের রাজনিতির জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে সভাপতি পদপ্রার্থী হবেন বলে শোনা যাচ্ছে। সভাপতি পদে দুলাল মিয়া সরদারেরও জনশ্রুতিও পাওয়া যায়। তিনি বলেন নেতাদের সিগনাল পেলে তবেই তিনি সভাপতি প্রার্থী হবেন।
সাধারণ সম্পাদক পদে ক্লিন ইমেজের তরুণ নের্তৃত ¡ও সাংগঠনিক দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ইতিমধ্যে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাকিম মন্ডল। এদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে ক্ষেতলাল উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র সিরাজুল ইসলাম বুলু তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে দৌড়-ঝাঁপ করে বেড়ালেও তাকে নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে পূর্র্বে অন্য দলের রাজনিতি করা নিয়ে বিরুপ প্রতিক্রিয়া শোনা গেছে।এ সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি= বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, যারা বলছেন তারা মিথ্যা বলছেন, আমি ছাত্রলীগ যুবলীগ থেকেই আওয়ামীলীগের রাজনীতি করছি । অপরদিকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাম মোস্তফা সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে নেতাকর্মীদের কাছে গণসংযোগ করছেন। জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুল হান্নান মিঠু আওয়ামী লীগের রাজনিতিতে ২০০৮ সালের আগে সক্রিয় না থাকলেও তিনিও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হবেন বলে শোনা যাচ্ছে।দুঃসময়ের সাবেক ছাত্র ও যুবনেতা বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সরদার সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক কোন পদে প্রার্থী হবেন  তিনি কোন মতামত দেননি। 
ক্ষেতলাল উপজেলা আওয়ামী লীগের এ সম্মেলনে ২৫৩ জন কাউন্সিলরের ভোটে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হোক বলে দাবী জানিয়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তারা চান সিলেকশনে নয়, কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটেই তাদের নেতা নির্বাচিত হোক।
বহিষ্কারের বিষয়ে তাইফুল ইসলাম তালুকদার বলেন, মুখের কথায় বহিষ্কার করলে তো হবেনা। আমাকে বহিষ্কারের ব্যাপারে কোন লিখিত নোটিশ বা বহিষ্কারাদেশ দেয়া হয়নি।
সম্মেলস প্রসংগে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মন্ডল বলেন, ২৩ ই মার্চ ক্ষেতলাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন উপলক্ষ্যে বর্ধিত সভার মাধ্যমে ৩ টি কমিটির যাচাই বাছাই করে স¦চ্ছ ভাবে কাউন্সিলর তালিকা প্রনয়ণ ও উন্মুক্ত  করে দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে অথবা কাউন্সিলরদের ভোটে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হবে।

দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন