বগুড়ায় ইফতার সামগ্রীর দাম চড়া গরমে চাহিদা বেড়েছে সাদা দইয়ের | Daily Chandni Bazar বগুড়ায় ইফতার সামগ্রীর দাম চড়া গরমে চাহিদা বেড়েছে সাদা দইয়ের | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ৩ এপ্রিল, ২০২২ ২৩:০৩
বগুড়ায় ইফতার সামগ্রীর দাম চড়া গরমে চাহিদা বেড়েছে সাদা দইয়ের
ষ্টাফ রিপোর্টার

বগুড়ায় ইফতার সামগ্রীর দাম চড়া
গরমে চাহিদা বেড়েছে সাদা দইয়ের

বগুড়ায় করোনা ভাইরাসের প্রভাব কমে যাওয়ার পর প্রথম রমজানে ইফতার পণ্য সামগ্রীর দাম ছিল বেশ চড়া। কোন রেস্টুরেন্টের সঙ্গে কোনটারই দামের মিল নেই। মুল্য বৃদ্ধির মধ্যেই রমজানের প্রথম দিনেই বগুড়ায় ইফতারের দোকানগুলোতে সাধারণ মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। মাহে রজমান উপলক্ষে কিছু অসাদু ব্যবসায়ি কৌশলে দাম বাড়িয়েছে। এবারের ইফতারের খাবারের তালিকায় ঢাকার চকবাজারের বেশ কিছু সামগ্রীও পাওয়া যাচ্ছে। 

ঠান্ডা পানীয় খাবার থেকে শুরু করে সকল খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় রোজাদারদের ভোাগান্তি ছিল প্রথমদিনে। খোলা বাজারে ইফতার সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে ছোলা ও বুন্দিয়া ১৫০ টাকা কেজি আর ঝুুড়ি, পিয়াজু, সরভাজা বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। ডাব বিক্রি হচ্ছে বড় ৮০ থেকে ৯০ টাকা আর ছোট ৬০ থেকে ৭০ টাকা পিচ। বেড়েছে সাদা দইয়ের দামও। গত বছর বগুড়ায় ইফতার সামগ্রী বিক্রি হয়েছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি। চলতি রমজান মাসেও ইফতার সামগ্রীতে এখনো বিক্রির শীর্ষে রয়েছে সাদা দই।
জানা যায়, দিনভর রোজা পালন শেষে ইফতারীতে অপরিহার্য উপাদান হয়ে উঠছে বগুড়ার দই। ঠান্ডা শরবত ও ঘোল পান করে তৃষ্ণা মেটাচ্ছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। দই বিক্রির পাশাপাশি ইফতার সামগ্রী বিক্রিতে দেখা গেছে একেক রেস্টেুরেন্টে একেক দাম। শহরের জলেশ^রীতলায় ইফতার সামগ্রী বিক্রিতে সবচেয়ে বেশি দাম হাঁকা হয়। এই এলাকায় নামী ও অভিজাত হোটেলের ইফতার সামগ্রীর দাম আকাশ ছোঁয়া। আবার শহরের সাতমাথা এলাকায় বিভিন্ন হোটেলে ইফতার সামগ্রী বিক্রি হয়েছে ২০০ টাকা কেজি। আবার কোন কোন হোটেলে বিক্রি হয়েছে ১৮০ টাকা কেজি। ফুটপাতে ও পাড়া মহল্লায় ইফতার সামগ্রী বিক্রি হয়েছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি। এদিকে, বগুড়ার ঐতেহ্যবাহি আকবরিয়া হোটেলে প্রথমবারের মত ঢাকার চকবাজারের ইফতার সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেছে। ঢাকার ‘বড়বাপের পোলায় খায় ঠোঙ্গায় ভরে নিয়ে যায়’ নামের কয়েকটি খাবারের মিশ্রন (মুরগী, ঘি, মটর ডাল সিদ্ধ, খাসির কলিজা, ডিম) বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা কেজি। এখানে খাসির রান বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকা কেজি, কলিজা ভুনা, চিকেন ফ্রাই ৫১০, কোয়েল পাখি ৮০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া হালিম বাটি ছোট ৮০ টাকা, বুট ১৮০ টাকা, ছোলা ১৮০ টাকা, অন্যান্য ইফতারসামগ্রীও ১৮০ টাকা বিক্রি করছে। রয়েছে চিকেন বল, জালি কাবাব, শামী কাবাব, মিল্ক ব্রেড পাকুড়া, চিকেন ব্রেড পাকুড়া, বিফ চপ, লাচ্ছি, ফালুদা ইত্যাদি। 
জানা যায়, বগুড়ার নামী আর ভালমানের সাদা দই শেষ হয়ে যায় দুপুরে। প্রচন্ড রোদ থাকায় দই এর চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। গত কয়েকদিন আগেও দইয়ের দোকানে ৫০ থেকে ১৫০ টাকায় সাদা দই বিক্রি হলেও প্রথম রোজায় দই বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ১৮০ টাকা পিচ। আর ফুটপাতে আকার ভেদে ৬০ টাকা থেকে ১২০ টাকায় সাদা দই বিক্রি হয়েছে। বগুড়ায় অতীত ঐতিহ্য ধরে রোজাদার ব্যক্তিদের জন্য দই এখনও ইফতারে অন্যতম আকর্ষণ হয়ে আছে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে সাদা দইয়ের সরবরাহ দিতে পারেনি ব্যাবসায়িরা।
বগুড়ার দই ব্যবসায়িরা জানান, রমজান মাসে দইয়ের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। চাহিদামত দই সরবরাহ করা যায় না। প্রতিটি সাদা দইয়ের হাড়ি বিক্রি করা হয়ে থাকে ৯০ টাকা করে। কিছু স্পেশাল বিক্রি করা হয় ১২০ টাকা করে। দই তৈরীর সময় যতটা প্রয়োজন তা পাওয়া যাচ্ছে না। চাহিদা প্রচুর রয়েছে। তারা আরো জানান, একদিকে রোজা। আরেক দিকে প্রচন্ড গরম। এই গরমে রোজাদার ব্যক্তিগণ ঠান্ডা পানীয় খাবার খেতে চায় বেশি। সাদা দই দ্রুত শরীরকে ঠান্ডা করে। এই কারণে বগুড়ায় ইফতারে সাদা দইয়ের চাহিদা বেশি। 

দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন