বৃদ্ধা মা গুলজান বেওয়াকে (৮০) তিনি ছেলে মারপিট করে বের করে দেওয়ার পর সেই মাকে উদ্ধার করলো বগুড়ার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমর কুমার পাল। ৮ এপ্রিল শুক্রবার রাতে নির্যাতিত মা গুলজানকে নিজ গাড়িতে করে নিয়ে যান এবং প্রাথমিক অবস্থায় বগুড়া সরকারি শিশু পরিবার কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, ৮ এপ্রিল ২০২২ শুক্রবার রাতে গুলজান বেওয়াকে বগুড়া শহরের কলোনী তাজমা সিরামিক ফ্যাক্টরির সামনে দেখতে পেয়ে এক ব্যক্তি সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সমর কুমার পালকে খবর দেন এক ব্যক্তি। তারপর নির্বাহী কর্মকর্তা সমর পাল নির্যাতিত মা গুলজানকে নিজ গাড়িতে করে নিয়ে যান এবং উপজেলায় আশ্রয় করে দেন। ছেলেদের নির্যাতনের শিকার মা গুলজান বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সুখান পুকুর এলাকার তিওরগ্রামের বাসিন্দা। তার শরীরের নির্যাতনের চিহ্ন ও সঙ্গে ব্যাগে কিছু জিনিসপত্র রয়েছে।
বৃদ্ধা মা গুলজান জানান, স্বামী মারা গেছেন অনেক আগে। তিন ছেলে হযরত আলী, হোসেন আলী, মোহাম্মদ আলী ও এক মেয়ের বিয়ে হয়েছে। বাড়িতে ঠিকভাবে ছেলেরা খেতে দেয় না, যত্ন করে না। ছেলেরা পেশায় সংসারী কাজ করে। বেঁচে থাকার তাগিদে নানা জায়গায় তিনি ভিক্ষা করেন। ভিক্ষা করে পাওয়া চাল ও টাকা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু তার ছেলেদের ভিক্ষা করা পছন্দ না। তাই তারা তাকে মারপিট করেছে। শরীরে চিহ্ন রয়েছে। ভাল ভাবে খেতেও দেয়না, ভিক্ষাও করতে দেয় না। এমতাবস্থায় তাকে গত দুদিন আগে (৬ এপ্রিল) মেরে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে ছেলেরা।
বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমর কুমার পাল বলেন, ৮ এপ্রিল রাত ১০টার পর একজন তাকে ফোন করে জানান এক বৃদ্ধ মা তাজমা সিরামিকের সামনে যাত্রী ছাউনিতে বসে আছেন। তার ছেলেরা নাকি তাকে মেরে বের করে দিয়েছে। এমন খবর পেয়ে সাথেসাথে ছুটে যাই ঘটনাস্থলে। এসে তার সাথে কথা বলি। তার ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারি। তাকে উদ্ধার করে সদর উপজেলায় নেওয়া হয়েছে। তার খাবার ও থাকাসহ যত্নের ব্যবস্থা করা হবে। শুক্রবার রাতেই তাকে বগুড়া সরকারি শিশু পরিবার কেন্দ্রে প্রেরণ করা হয়েছে। আপাতত তিনি সেখানেই যত্নের সঙ্গে থাকবেন। পরে যদি তিনি পরিবারে ফিরতে চান সেটাও ব্যবস্থা করা হবে।
দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন