গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে গোলাপবাগ পৌর হাট-বাজারকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের আহতের সংখ্যা প্রায় ১০। এ রিপোর্ট লেখাকালীন শনিবারেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে পৌর শহরের মাছ পট্টিতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে তা চকগোবিন্দ চাষকপাড়া ও ব্রীজ রোড নামক দুটি পাড়ায় ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের অনেকেই গোবিন্দগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধানী রয়েছে। এ ঘটনায় মো. কায়েম সরকার ও মো. রায়হান মিয়া বাদী হয়ে পৃথক দুটি অভিযোগ থানায় জমা দিয়েছে।
জানা যায়, গোলাপবাগ হাট-বাজারের মাছ আড়তে খাজনা তোলা নিয়ে দুটি গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। এ ঘটনায় গত কয়েকদিন থেকে বাজার এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে এবং আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। এর মাঝে গত বৃহস্পতিবার উভয় গ্রুপের শীর্ষ ব্যক্তি ও পৌর কর্তৃপক্ষদের মধ্যস্থতায় রাত ৯টার দিকে স্থানীয় এনসিডিপি মার্কেটে বৈঠক হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষ শান্তি বিরাজে সম্মত হয়। কিন্তু রাত ১০টার পর মাছপট্টিতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে একটি গ্রুপের আপেল মিয়া, আনোয়ার ও মিঠু রক্তাক্ত জখম হয়ে গোবিন্দগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বাজার এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করে। পরবর্তীতে চক গোবিন্দ গ্রামের চাষকপাড়া ও ব্রীজ পাড়ায় সংঘর্ষ শুরু হয়। মধ্যরাত পর্যন্ত সংঘর্ষে ব্রীজ পাড়ায় একাধিক বাড়ি-ঘর ভাংচুর সহ জহুরা বেগম ও রাজ নামের দুই জন রক্তাক্ত জখম হয়ে গোবিন্দগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। এসময় অনেকেই আহত হয়। তারা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান।
থানায় অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আপেল মিয়া, আনোয়ার ও মিঠু আহতের ঘটনায় চাষক পাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে কায়েম সরকার বাদী হয়ে জুয়েল, শাহিন, ছানোয়ার, মনোয়ার, রায়হান, রাশেদ, মঞ্জু, আশরাফুল, মহাতাব, রেজা, রতন, যুব, শরিফুল, বাবু মিয়া সহ অজ্ঞাত ১৫/২০ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় এজাহার দিয়েছেন। এজাহারে গোলাপবাগ হাট-বাজার ইজারাদারের কাছ থেকে মাছ পট্টি সাবলিজ নেওয়ার মৌখিক চুক্তিতে ৩৭ লাখের মধ্যে ১৫ লাখ টাকা পরিশোধের কথা উল্লেখ করা হয়।
অপরদিকে ব্রীজ রোড পাড়ার রইচ উদ্দিনের ছেলে রায়হান মিয়া বাদী হয়ে জহুরা বেগম, রাজ ও জয়নালের জখমের ঘটনায় এবং বাড়ি-ঘর-গাড়ি ভাংচুর সহ প্রাণনাশের হুমকি অব্যাহত থাকায় কায়েম, মিলন, সাজু, শাহা আলম, বাবু, মাহাবুল, রশিদুল, অহেদুল, ফরিদুল, আকাশের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত ১৫/১৬ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন।
এদিকে গোলাপবাগ হাট-বাজার ইজারাদারের ম্যানেজার মিজান জানান, হাট-বাজার কখনো সাবলিজ দেওয়া যায় না। একটি পক্ষ সাবলিজ নিতে ১৫ লাখ টাকা দিয়েছে মর্মে প্রচারণার বিষয়টি সত্য নয়। এছাড়া যদিও কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে থাকে সেটা আমাদের ইজারাদার বা তার কোনো লোকের সাথে ঘটে নি।
গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ইজার উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে মাছপট্টিতে দুটি গ্রুপে উত্তেজনা ও পরবর্তীতে চাষক পাড়া এবং ব্রীজ পাড়ার ঘটনায় একাধিক অভিযোগ থানায় জমা হয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। তবে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরে গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভাধীন গোলাপবাগ হাট-বাজারটি ১৪২৯ বঙ্গাব্দে ভ্যাট-ট্যাক্স সহ ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকায় ইজারা নেয় শিলু গ্রুপ। যা গোলাপবাগ হাট-বাজার ইজারার ইতিহাসে সর্বোচ্চ দর।
দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন