বগুড়ায় পৃথক অভিযানে বিদেশী পিস্তল ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ ৩ জন গ্রেফতার | Daily Chandni Bazar বগুড়ায় পৃথক অভিযানে বিদেশী পিস্তল ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ ৩ জন গ্রেফতার | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১৭ এপ্রিল, ২০২২ ০০:১৪
বগুড়ায় পৃথক অভিযানে বিদেশী পিস্তল ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ ৩ জন গ্রেফতার
দেশীয় অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান
সঞ্জু রায়, স্টাফ রিপোর্টার:

বগুড়ায় পৃথক অভিযানে বিদেশী পিস্তল ও
অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ ৩ জন গ্রেফতার

বগুড়ার কাহালু উপজেলা থেকে অস্ত্র তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামসহ বাবা ও ছেলেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে পরিচালিত এই অভিযানে অস্ত্র তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দসহ গোপনে অস্ত্র তৈরির এই কারখানার সন্ধান পায় বগুড়া জেলা পুলিশ। একই দিন রাত আনুমানিক ৩ টায় পৃৃথক আরেকটি অভিযানে জেলার ধুনট উপজেলার নিত্তিপোতা মধ্যপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে একটি অত্যাধুনিক বিদেশী পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিসহ এক যুবককেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

কাহালু থেকে গ্রেফতার হওয়া বাবা ও ছেলে হলেন, উপজেলার কলমা শিবা গ্রামের মৃত: দেবেন্দ্রনাথ প্রামানিকের ছেলে নিলু চন্দ্র প্রামানিক (৪৫) ও তার ছেলে সঞ্জিত চন্দ্র প্রামানিক (২২)। এছাড়াও ধুনট থেকে পিস্তল ও গুলিসহ গ্রেফতার হওয়া যুবক হলেন, ধুনটের নিত্তিপোত্তা গ্রামের রুস্তম আলীর ছেলে  শহিদুল ইসলাম (৩৩)।
শনিবার দুপুরে বগুড়া পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিং এ এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বিপিএম।
প্রেস ব্রিফিং এ পুলিশ সুপার বলেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কাহালুর কলমা শিবা গ্রামে একরাম হোসেন বগা নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার পরপরই জেলা পুলিশ তদন্তে নামলে সন্দেহভাজন হিসেবে ঐ গ্রামের বাসিন্দা ৪৫ বছর বয়সী নিলু চন্দ্র প্রাং ও তার ছেলে ২২ বছর বয়সী সঞ্জিত কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বের হয়ে আসে। তার দেয়া তথ্যমতে গ্রেফতার নিলুর বসত বাড়ির টয়লেটের নিকটে মাটির নিচে বাজারের ব্যাগের ভিতর পলিথিন দ্বারা মোড়ানো অবস্থায় বিপুল পরিমাণ দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র এক নলা বন্দুক তৈরির যন্ত্রাংশ উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়। 
পুলিশ সুপার বলেন, কাহালুর সেই অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামগুলো হলো একনলা বন্দুক তৈরির ৫টি ব্যারেল, লোহার তৈরি রিকয়েলিং স্প্রিং ৩টি, ফায়ারিং পিন ৬টি, স্টিলের তৈরি বন্দুকের ট্রিগার ৬টি, একনলা বন্দুক তৈরির স্টিলের খাপ ৫টি, বিভিন্ন সাইজের লোহার পাত ১৯টি, ব্যারেলের শেষ অংশ (লোহার তৈরি) জং ধরা ১টি, ৩টি লোহার রড, ড্রিল মেশিনে ব্যবহৃত ৪টি লোহার ফোলা, লোহার তৈরি হ্যামার ৬টি, হ্যামারের মাথায় লাগানো দণ্ড ও ৪টি স্টিলের পাত।
কাহালুর অভিযান প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, ধারণা করা হচ্ছে দীর্ঘদিন থেকেই গোপনে তারা দেশীয় একনলা আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কাজ করে যাচ্ছিল গ্রেফতারকৃতরা। তবে কাহালুর কোন গ্রুপ বা কার ছত্রছায়ায় এই অপরাধ সংগঠিত হচ্ছিল তা জেলা পুলিশের পক্ষে নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হবে। যার জন্যে গ্রেফতারকৃত বাবা-ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে দীর্ঘ রিমান্ডেরও আবেদন করা হবে যদিও ইতিমধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর দিনমজুর একরামের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় ইতিমধ্যেই শামিম হোসেন (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সাথে ঐ ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার ও পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের অভিযানও চলমান রয়েছে মর্মে জানান জেলা পুলিশের কর্ণধার এসপি সুদীপ। এদিকে প্রেস ব্রিফিং এ জেলা পুলিশের পৃথক আরেকটি অভিযানে ধুনট থেকে বিদেশী পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার হওয়া যুবকের প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার জানান, ধুনট উপজেলার নিত্তিপোতা মধ্যপাড়া গ্রামের এক বিলের মধ্যে থাকা সেচ পাম্পের ঘরে মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র নিয়ে এক যুবক অবস্থান করছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সুকৌশলে শহিদুল ইসলাম কে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধেও প্রচলিত অস্ত্র আইনে ধুনট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু অস্ত্রের উৎস কি বা কিভাবে তার কাছে এলো এমন নানা জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে তাকেও রিমান্ডে আনা হবে।
প্রেস ব্রিফিং এ এসপি সুদীপ বলেন, মান্যবর আইজিপির নেতৃত্বে ও রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি’র সার্বিক দিক-নির্দেশনায় বগুড়া জেলা পুলিশ আইনশৃঙ্খলা সুষ্ঠু রাখতে সর্বদা বদ্ধপরিকর। ঈদকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে বগুড়ায় পুলিশের  বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। মাদক, সন্ত্রাস ও যেকোন ধরণের অপরাধ দমনে জেলা পুলিশ কাউকেই ছাড় দেবেনা মর্মে হুশিয়ারী দেন তিনি। 
প্রেস ব্রিফিং এ অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আলী হায়দার চৌধুরী ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আব্দুর রশিদ, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (নন্দীগ্রাম সার্কেল) রাজিউর রহমান এবং কাহালু থানার অফিসার ইনচার্জ আমবার হোসেনসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ।   

দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন