বগুড়ায় পরকীয়া করে বিয়ে করা স্ত্রীর হাতেই খুন হয়েছিল লাভলু | Daily Chandni Bazar বগুড়ায় পরকীয়া করে বিয়ে করা স্ত্রীর হাতেই খুন হয়েছিল লাভলু | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল, ২০২২ ২২:৫১
বগুড়ায় পরকীয়া করে বিয়ে করা স্ত্রীর হাতেই খুন হয়েছিল লাভলু
৬ বছর পর রহস্য উন্মোচন করলো পিবিআই, গ্রেফতার ২
সঞ্জু রায়, স্টাফ রিপোর্টার:

বগুড়ায় পরকীয়া করে বিয়ে করা
স্ত্রীর হাতেই খুন হয়েছিল লাভলু

নিজেদের আলাদা সংসার থাকা সত্ত্বেও পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে গিয়েছিলেন বগুড়ার লাভলু ও ৪৫ বছরের ফরিদা বেগম। এদিকে গোপন এই সম্পর্ক জানাজানি হওয়ায় ফরিদাকে ডিভোর্স দেন তার স্বামী মিনু বেপারি। পরে প্রেমিক লাভলুকে বিয়ে করেন ফরিদা। তবে অজানা কারণে বিয়ের মাত্র ৬দিনের মাথায় ফরিদাকে তালাক দেন লাভলু। কিন্তু ডিভোর্সের পরেও নিয়মিত ঘনিষ্ঠ হতেন তারা। গরু ব্যবসায়ী লাভলুর জোর করে এই শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং সংসার ভাঙার ক্ষোভ থেকে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের প্রলোভন দেখিয়েই সুপরিকল্পিতভাবে সহযোগীদের নিয়ে লাভলুকে হত্যা করেছিল ফরিদা বেগম। যাতে পরকীয়ার শেষ পরিণতি দাড়াই মৃত্যু...!!

দীর্ঘ ৬ বছর পর বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের চাঞ্চল্যকর লাভলু হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন করে এমনই তথ্য জানতে পারে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ হত্যাকান্ডে মূল অভিযুক্ত ফরিদা বেগম কে গ্রেফতার করলে আদালতে দেওয়া তার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি থেকে ক্লুলেস এই হত্যাকান্ডের বিস্তারিত উন্মোচন হয়। এছাড়াও ফরিদার দেওয়া বর্ণনা থেকে এই হত্যাকান্ডে জড়িত তার এক সহযোগী ৪০ বছরের আব্দুল গফুর নামে আরও একজনকেও গ্রেফতার করা হয়। 
মঙ্গলবার সকালে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিং এই তথ্য নিশ্চিত করেন বগুড়া পিবিআই’র পুলিশ সুপার (এসপি) আকরামুল হোসেন। প্রেস ব্রিফিং এ পুলিশ সুপার আকরাম বলেন, লাভলুকে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। ফরিদাকে নিহত লাভলু ডিভোর্স দিলেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন তারা। ছাড়াছাড়ি হওয়ার পরেও লাভলু ফরিদাকে বিভিন্নভাবে জিম্মি করে তার সঙ্গে নিয়মিত ঘনিষ্ঠ হতেন। সর্বশেষ ঘনিষ্ঠ হওয়ার প্রলোভনে লাভলুকে ডেকে এনে হত্যা করেন ফরিদা। এই হত্যাকান্ডের পরপরই বিষ্ণুপুর গ্রামের ফজর উদ্দিনের মেয়ে ফরিদা বগুড়া থেকে গা ঢাকা দিয়েছিল। তবে কোথায় ছিলেন তার অবস্থান কেউ বলতে পারেনি। অনেকে ধরে নিয়েছিল সে মারা গিয়েছে। কিন্তু হার না মানা তদন্তে পিবিআই বগুড়া নিশ্চিত হয় যে গাজীপুরের জয়দেবপুর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর এলাকায় আসামী ফরিদা চা বিক্রি করে। 
পরবর্তীতে গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তাকে সেখান থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সোমবার (২৫ এপ্রিল) তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং তার দেওয়া তথ্যমতেই হত্যাকান্ডে তার সহযোগী বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বামুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল গফুর কে সোমবার রাতে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে, ২০১৬ সালের ১০ জুলাই রাতে লাভলু সরকারকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। বিষ্ণুপুর গ্রামের একটি মেহগনি বাগানে ঘনিষ্ঠ হওয়ার প্রলোভন দিয়ে তাকে ডেকে নেন ফরিদা। পরে সহযোগীদের নিয়ে হাত-পা চেপে ধরে শ্বাসরোধে লাভলুকে খুন করেন তিনি। পরদিন সকালে ওই বাগান থেকে লাভলুর লাশ উদ্ধার হয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একই বছরের ১৩ আগষ্ট নিহত লাভলুর স্ত্রী ৩০ বছরের নুর জাহান খাতুন শিবগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরবর্তীতে মামলাটি তদন্ত শুরু করে পিবিআই।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিং এ পুলিশ সুপার আকরাম হোসেন আরো জানান, গ্রেফতার হওয়া ফরিদাকে সোমবার এবং আব্দুল গফুরকে মঙ্গলবার দুপুরের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে ফরিদা বাদে এই হত্যাকান্ডে আরও ৪ জন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। হত্যায় ফরিদাকে সহযোগীদের একজনকে গ্রেফতার করা হলেও বাকীদের গ্রেফতারে পিবিআই এর অভিযান অব্যাহত আছে।  

 দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন