নওগাঁর কীর্ত্তিপুর পশুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায় | Daily Chandni Bazar নওগাঁর কীর্ত্তিপুর পশুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায় | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ৫ জুলাই, ২০২২ ২২:১৩
নওগাঁর কীর্ত্তিপুর পশুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়
অভিযানের পরেও উপজেলা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালো ইজারাদার
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর কীর্ত্তিপুর পশুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়

নওগাঁ সদর উপজেলার কীর্ত্তিপুর পশুর হাটে প্রতিটি গরু-ছাগলে সরকার নির্ধারিত হাসিলের চেয়ে ১৫০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইজারাদার আতিকুজ্জামান হিটলার এর বিরুদ্ধে। বেপরোয়া ইজারাদারকে নিয়ন্ত্রনে সম্প্রতি ওই হাটে অভিযান পরিচালনা করেও নিয়ন্ত্রনে আনতে পারেনি উপজেলা প্রশাসন। এতে চরম ভোগান্তীতে পড়তে হচ্ছে হাটে পশু কিনতে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের। অতিরিক্ত হাসিল আদায় বন্ধে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগীরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁ সদর উপজেলার কির্তীপুর হাট চলতি বাংলা সনের (১৪২৯) জন্য এক বছর মেয়াদি ইজারার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ৫৭ লাখ ১০ হাজার টাকায় হাট অনুমোদন পান ইজারাদার আতিকুজ্জামান হিটলার। যেখানে সরকারী নিয়ম অনুযায়ী পশুর হাটে প্রতিটি গরুতে সর্ব্বোচ্চ ৫০০ টাকা এবং ছাগলের জন্য সর্ব্বোচ্চ ২০০ টাকা হাসিল আদায়ের নিয়ম রয়েছে।
সরেজমিন মঙ্গলবার (০৫ জুলাই) কীর্ত্তিপুর হাটে দেখা যায়, সরকার নির্ধারিত রেট অমান্য করে প্রতিটি গরুর ক্রেতার থেকে ৬০০ টাকা এবং প্রতিটি ছাগলের ক্রেতার থেকে ৪০০ টাকা করে হাসিল আদায় করা হয়েছে। এছাড়া লিখনিতে গরু বিক্রেতার থেকে ৫০ টাকা এবং ছাগল বিক্রেতার থেকে ৫০ টাকা করে নেয়া হয়। হাসিল আদায়ের পর যে রশিদ দেয়া হয়েছে তাতে টাকার কোন পরিমান উল্লেখ করেনি ইজারাদারের হাটে আদায়কারীরা। প্রতিটি গরুতে অতিরিক্ত ১৫০ টাকা এবং ছাগলে অতিরিক্ত ২৫০ টাকা হাসিল আদায়ের প্রতিবাদ করলেও কর্ণপাত করছেন না ইজারাদার। আসন্ন কোরবানী ঈদের আগে ইজারাদারদের এই অতিরিক্তি টাকা আদায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।
উপজেলা সদরের মহেশপুর গ্রাম থেকে গরু কিনতে আসা ক্রেতা পাপ্পু হোসেন বলেন, ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে কোরবানির জন্য একটি গরু কিনেছি। যেখানে ইজারাদারকে ৬৫০ টাকা হাসিল দিতে হয়েছে। সরকার নির্ধারিত হাসিলের রেট তালিকা হাটে কোথাও টানানো নেই। এই সুযোগই নিচ্ছে ইজারাদাররা। তাঁদের কিছু বললে বলছে এটাই সরকারী রেট।
একই উপজেলার মল্লিকপুর গ্রাম থেকে ছাগল কিনতে আসা ক্রেতা আহমেদ আলী বলেন, কোরবানির জন্য ১৫ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে একটি ছাগল কিনেছি। এই ছাগলের জন্য আমার থেকে ৪০০ টাকা আবার বিক্রেতার থেকে ৫০ টাকাসহ ৪৫০ টাকা হাসিল নেয়া হয়েছে। সরকারী রেট অনুযায়ী ২০০ টাকা দিতে চাইলে ইজারাদারের আদায়কারী প্রতিনিধিরা বলে ছাগল না কিনে ফেরত যেতে। তাই বাধ্য হয়ে ২৫০ টাকা অতিরিক্ত হাসিল দিয়েই ছাগল কিনলাম। শুনেছিলাম এসিল্যান্ড এসে কয়েকদিন আগে অভিযান দিয়েছে। এরপরেও তাঁরা এখনো সরকারী নিয়ম মানছে না। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে ইজারাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
অভিযানের পর আবারো কেনো অতিরিক্ত হাসিল আদায় করা হচ্ছে এবিষয়ে জানতে কীর্ত্তিপুর হাট ইজারাদার আতিকুজ্জামান হিটলারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, হাটে অতিরিক্ত টাকা আদায় করাটা আমাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। অতিরিক্ত হাসিল আদায় বিষয়ে কোন সাংবাদিককে উত্তর দিতে আমি বাধ্য নয়।
নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মির্জা ইমাম উদ্দিন বলেন, অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের জন্য কয়েকদিন আগে ওই হাটে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছে। ইজারাদার আবারো একই অপরাধ করে থাকলে শীঘ্রই সেখানে অভিযান পরিচালনা করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন