স্ত্রীর লাশ রেখে পালালেন স্বামী! | Daily Chandni Bazar স্ত্রীর লাশ রেখে পালালেন স্বামী! | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ২৫ আগস্ট, ২০২২ ০২:১৪
স্ত্রীর লাশ রেখে পালালেন স্বামী!
সঞ্জু রায়, স্টাফ রিপোর্টার:

স্ত্রীর লাশ রেখে পালালেন স্বামী!

নাজমা বেগমের মরদেহ নিয়ে শোকে পাথর তার স্বজনরা। সেই শোকে সামিল হন তার স্বামী শহীদ হোসেনও। নাজমার দাফন কাফনের জন্য সবই প্রস্তুত। খোঁড়া হয়েছে কবরও। বিপত্তিটা ঘটলো নাজমার মরদেহের গোসল করানোর সময়। স্বজনরা দেখতে পান নাজমার শরীরজুড়ে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন। বিষয়টি একানে-ওকানে সবাই জানাজানি হলে স্ত্রী লাশ দাফনের আগেই পালিয়ে যান নাজমার স্বামী শহীদ হোসেন। স্বামী শহীদের শোকের পুরোটাই যে অভিনয় ছিলো তা জানা গেলো অনেক পরে।  ঘটনাটি বগুড়া সদর উপজেলার লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নের সাতশিমুলিয়া গ্রামের।

বুধবার এমন ঘটনার পর নাজমার স্বজনদের দাবির মুখে সদর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতলে প্রেরণ করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন সদর থানা পুলিশের এসআই জাকির আল-আহসান। পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, নাজমার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তারা সেখানে যান। তাদের অভিযোগ নাজমাকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়াও তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন থাকায় লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
নাজমার স্বজনরা জানায়, সদর উপজেলার লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নের সাতশিমুলিয়া গ্রামের অলি মিয়ার ছেলে শহীদ হোসেন ও পাশের গোকুল ইউনিয়নের কামাল হোসেনের মেয়ে নাজমা। পারিবারিক ভাবে প্রায় ১৫ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুইটি সন্তানও আছে। শহীদ পেশায় একজন গাড়িচালক। প্রায় চারমাস আগে  কাজের সন্ধানে স্ত্রী ও সন্তানসহ শহীদ সাভারের হেমায়েতপুরে যান। তবে সেখানে তিনি বেকার অবস্থাতেই ছিলেন।
নাজমার ভাই সোবহান হোসেন জানান, 'তার বোন ও দুলাভাই ঢাকার সাভার হেমায়েতপুরে থাকেন। হুট করে তাদের মুঠোফোনে জানানো হয় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২ টার দিকে তার বোন নাজমা ডায়রিয়াতে মারা যান। এরপর সকাল ৭ টার দিকে তার দুলাভাই সাতশিমুলিয়া গ্রামে তার নিজ বাড়িতে লাশ নিয়ে আসেন। স্বাভাবিকভাবেই তারা দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। কিন্তু তার বোনের মরদেহ গোসল করানোর সময় দেখা যায় তার পুরো শরীরে আঘাতের চিহ্ন। এসময় তারা লাশ দাফনে বাঁধা দিলে নাজমার স্বামী শহীদ সেখান থেকে দ্রুত সটকে পড়ে। 
নাজমার ভাই সোবহান আরও জানান, তার বোন ও দুলাভাইয়ের মধ্যে প্রায়ই সাংসারিক কলহ লেগেই থাকতো। এর আগে তার বোনের গায়ে তার দুলাভাই শহীদ আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। সেবার ওই ঘটনা পারিবারিকভাবে মীমাংসা করা হয়।
পুলিশের এসআই জাকির আল-আহসান বলেন, নাজমার পরিবারের দাবি ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ায় লাশ ময়নাতদন্তে নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। নাজমার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন