শাজাহানপুরে পেশীবাজের কাছে জিম্মি ৪ পরিবার | Daily Chandni Bazar শাজাহানপুরে পেশীবাজের কাছে জিম্মি ৪ পরিবার | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ২৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ২৩:০৪
শাজাহানপুরে পেশীবাজের কাছে জিম্মি ৪ পরিবার
নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন
অনলাইন ডেস্ক

শাজাহানপুরে পেশীবাজের 
কাছে জিম্মি ৪ পরিবার

বগুড়ার শাজাহানপুরে জমি জমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে নুর আলম (৩৫) নামের এক পেশীবাজের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে ৪টি অসহায় পরিবার। হত্যার হুমকি মাথায় নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। এছাড়া ধারালো অস্ত্রসহ ওই পেশীবাজকে থানা পুলিশ আটক করলেও মামলায় সে ধারালো অস্ত্রের কথা উল্লেখ করা হয়নি। 
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজ বাড়ির উঠানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপরোক্ত অভিযোগ করেন শাজাহানপুর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর মধ্যপাড়া গ্রামের মফিজ উদ্দিন ফকিরের ছেলে হবিবর রহমান। লিখিত বক্তব্যে এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নিশ্চিন্তপুর মৌজার বিভিন্ন দাগে কয়েক খন্ড জমি নিয়ে প্রতিবেশি মৃত ময়েজ উদ্দিন ফকিরের ছেলে জামাল উদ্দিন ফকিরের সাথে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলে আসছে। জমি জমা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। বিরোধের এক পর্যায়ে ৪-৫ মাস আগে একদল সন্ত্রাসীর সহযোগিতায় বিরোধপূর্ণ জমিগুলো জবর দখল করে জামাল উদ্দিন ফকির। এরপর গত ২৩ ডিসেম্বর সকালে জবরদখলকৃত জমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছিল জামাল উদ্দিন ফকির। মাটি কাটতে নিষেধ করায় জামাল উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয় এবং দুই ছেলে ও অন্যান্য সহযোগিদের নিয়ে লাঠিশোটা, লোহার রড, ধারালো অস্ত্রসহ হবিবর রহমান ও তার শরিকদের উপর হামলা চালায়। হামলায় হবিবর রহমানের ভাতিজা সৈকত (১৭)’র মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়। হামলাকারিদের মারপিটে হবিবর রহমান, তার বাবা মফিজ উদ্দিন (৯০), ছোট ভাইয়ের স্ত্রী সাহিদা (৪০) আঘাতপ্রাপ্ত হন। এছাড়া তার দুই ভাতিজি সুমি (২২) ও সম্পা (১৮)’র শ্লীলতাহানি ঘটে। অবস্থা বেগতিক দেখে জামাল উদ্দিন ফকিরের ছেলে নুর আলম (৩৫) নিজ বাড়িতে গিয়ে আত্নগোপন করলে স্থানীয় জনতা তাকে অবরুদ্ধ করে। 
সংবাদ পেয়ে শাজাহানপুর থানা পুলিশ নূর আলমকে হেফাজতে নেয় এবং মারপিটের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর নুর আলমকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করে। কিন্তু নুর আলমকে আটকের সময় জব্দকৃত ধারালো অস্ত্রের বিষয়টি এজাহার থেকে বাদ দেয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন হবিবর রহমান। তিনি আরও বলেন, প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা সহ নানা রকম হুমকি দিচ্ছে। এতে হবিবর রহমান ও তার ছোট ৩ ভাই বেলাল হোসেন, হেলাল উদ্দিন ও সুলতান আহম্মেদের পরিবার চরম নিরপত্তহীনতায় ভুগছে। এমতাবস্থায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বগুড়ার পুলিশ সুপারের নিকট তিনি অসহায় এই ৪টি পরিবারের নিরাপত্তার আবেদন জানিয়েছেন। অপরদিকে ধারালো অস্ত্রের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা শাজাহানপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, আসামীকে আটক করার সময় লোহার রড পাওয়া গেছে, যা জব্দ তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। আসামী নুর আলমকে আটকের সময় ধারালো অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে মর্মে যে দাবি করা হচ্ছে তা সত্য নয় উল্লেখ করে শাজাহানপুর থানার ওসি আব্দুল কাদের জিলানী জানিয়েছেন, মাথায় আঘাত করা কাজে ব্যবহৃত লোহার রড জব্দ করা হয়েছে। যা জব্দ তালিকায় দেখানো হয়েছে। 

দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন