বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় ২৪ঘণ্টার মধ্যে মন্দিরে চুরির রহস্য উদঘাটন করেছে থানা পুলিশ। সেই সঙ্গে এ চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই চোরকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উপজেলার ছোট ধাপ গ্রামের মৃত মোসলিম প্রাং এর ছেলে সেলিম প্রাং(৩৮) ও কাহালুর বীরকেদার ইউনিয়নের জাঙ্গালপাড়া গ্রামের মৃত ইছাহাক আলীর ছেলে এমরান খন্দকার(২৪)। এ ঘটনায় চেঙ্গা পালপাড়া শ্রীশ্রী দয়াময়ী কালীমাতা মন্দির কমিটির সভাপতি জীবন চন্দ্র পাল গত ১এপ্রিল রাতে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ বিষয়ে ৩মার্চ বেলা ১১টায় দুপচাঁচিয়া থানা চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(প্রশাসন ও অর্থ) স্নিগ্ধ আখতার পিপিএম প্রেস ব্রিফিং করেছেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, গত ৩১মার্চ দিবাগত রাতে দুপচাঁচিয়া পৌর এলাকার চেঙ্গা পালপাড়া শ্রীশ্রী দয়াময়ী কালীমাতা মন্দিরের গ্রিলের পাতি ভেঙ্গে কালী প্রতিমার ৩টি চুড়ি চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। সেই সঙ্গে মন্দিরের বারান্দায় রক্ষিত দানবাক্স ভেঙ্গে নগদ টাকাও চুরি করে নিয়ে যায় তারা। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পরপরই জেলা পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বিপিএম,পিপিএম এর দিক নির্দেশনায় দুপচাঁচিয়া থানা পুলিশ ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে চুরি ঘটনার ২৪ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উৎঘাটন ও চুরি যাওয়া স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করেন। দান বাক্সে থাকা এক হাজার টাকা সেলিম ও এমরান ভাগ করে নেয়। ৩টি স্বর্ণের চুড়ির মধ্যে ১টি সেলিমের নিকট থেকে পুলিশ উদ্ধার করে। এমরানের হেফাজতে থাকা অপর ২টি চুড়ি তার বাড়ির পাশে নদীতে ফেলে দিয়েছে বলে সে জানায়। জিজ্ঞাসাবাদে এমরান পুলিশের নিকট জানায় যে, কালী প্রতিমার হাত থেকে স্বর্ণের চুড়ি খুলতে গিয়ে সে দারুনভাবে ভয় পেয়েছিল। এতে চুরি করে বাড়ি ফেরার পথেই তার প্রচন্ড জ্বর আসে এবং অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। এ ঘটনা এমরান তার মাকে জানালে তার মা পাশের বাড়ির একজনকে ডেকে এনে ঝাড়ফুক দেন এবং চুরি করা স্বর্ণের চুড়ি তার মায়ের কথামতো নদীতে ফেলে দেয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদ্বয় মাদকসেবী। সেলিমের বিরুদ্ধে ৭টি মাদক ও চুরি মামলা এবং এমরানের বিরুদ্ধে ৩টি মাদক মামলার তথ্য থানার নথিতে পাওয়া গেছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন আদমদীঘি সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার নাজরান রউফ, দুপচাঁচিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রশিদ সরকার, এসএই শাহজাহান আলী সহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তাগণ।
দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন