গোবিন্দগঞ্জ ভূমি অফিসে রমরমা ঘুস বাণিজ্য | Daily Chandni Bazar গোবিন্দগঞ্জ ভূমি অফিসে রমরমা ঘুস বাণিজ্য | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ৩১ মার্চ, ২০২৪ ২২:৫২
গোবিন্দগঞ্জ ভূমি অফিসে রমরমা ঘুস বাণিজ্য
ষ্টাফ রিপোর্টার

গোবিন্দগঞ্জ ভূমি অফিসে রমরমা ঘুস বাণিজ্য

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ ভূমি অফিসে রমরমা ঘুস বাণিজ্যের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন প্রায় দেড় হাজার কৃষক পরিবার। অর্পিত সম্পত্তির লিজ বাতিলের ভয় দেখিয়ে এসব কৃষক পরিবারের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা ঘুস নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সেবাগ্রহীতাদের সাথে নানাভাবে হয়রানিসহ অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও রয়েছে।

নিয়মানুযায়ী অর্পিত সম্পত্তি ভোগকারীদের প্রতি বছর জমির খাজনা পরিশোধ করে ডিসিআর নিতে হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে প্রতি শতক ২০ টাকা হারে  হিসেবে করে  যে টাকা হয় তার তিন গুন টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে কৃষকদের কাছ থেকে। কখনো কখনো এর চেয়েও বেশি টাকা ঘুস দাবি আদায়  করা হয়। কোনো কৃষক ঘুষ দিতে রাজি না হলে তার জমি লিজ বাতিলের হুমকি দেওয়া হয়।

এমন একজন ভুক্তভোগী গোবিন্দগঞ্জের মেসরাইল মৌজার  সুজাউল করিম বলেন, তিনি পৈত্রিকসূত্রে পাওয়া সরকারের অর্পিত সম্পত্তির ইজারাদার। ৫৭ শতাংশ কৃষি জমিতে চাষাবাদ করেন তিনি। নিয়মানুযায়ী প্রতিবছর জমির খাজনা পরিশোধ করে ডিসিআর নিতে হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে প্রতি শতক ২০ টাকা হারে  হিসেবে করে  যে টাকা হয় তার তিন গুন টাকা অতিরিক্ত আদায় করেন উপজেলা ভূমি অফিসের আদায়কারী সার্টিফিকেট সহকারী মোছা. রোমানা খাতুন। না দিলে লিজ বাতিলের হুমকি দেন রোমান খাতুন। উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক এলাকায় ‘ক’ শ্রেণির প্রায় ২০০ একর অর্পিত সম্পত্তি রয়েছে। এসব কৃষি জমি চাষাবাদ করেন প্রায় দেড় হাজার পরিবার। জমি হাত ছাড়া হওয়ার ভয়ে বাধ্য হয়ে ডিসি আর নিতে অতিরিক্ত টাকা দেন তারা। বেশি টাকা না দিলে অন্যদের কাছে জমি লিজ দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।  

তবে সেবাগ্রহীতার সাথে নানাভাবে হয়রানিসহ অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সহকারী কর্মকর্তা (ভূমি) এসএম আব্দুল্লাহ-বিন-শফিক। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো অভিযোগ নেই। তাছাড়া ডিসি স্যারের কাছেও কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। এছাড়া তার দপ্তরে জমির খাজনা পরিশোধ করে ডিসিআর নিতে ঘুস বাণিজ্যের যে অভিযোগ রয়েছে তা সরাসরি অস্বীকার করেননি এ কর্মকর্তা। তবে তিনি দাবি করেছেন এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

এ বিষয়ে গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাহিদ হাসান সিদ্দিকী বলেন, অভিযোগ যাচাই বাছাই করে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন