বগুড়ায় ২১ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের মানববন্ধন | Daily Chandni Bazar বগুড়ায় ২১ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের মানববন্ধন | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ৪ এপ্রিল, ২০২৪ ২৩:৫২
বগুড়ায় ২১ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের মানববন্ধন
ঈদ বোনাস হিসেবে পেয়েছেন চাকরি হারানোর সংবাদ
ষ্টাফ রিপোর্টার

বগুড়ায় ২১ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের
দাবিতে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের মানববন্ধন

ঈদের আগে সবাই যখন তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদ কেনাকাটায় ব্যস্ত তখন চোখের জলকে সঙ্গী করে শূণ্য পকেটে নিজেদের বকেয়া ২১ মাসের বেতন দ্রুত পরিশোধের আকুতি জানিয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে সমবেত হয়েছিলেন বগুড়ার ৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়োগ পাওয়া মোট ৩২ জন আউটসোর্সিং কর্মচারীদের একাংশ। 

২১ মাসের বকেয়া বেতন কবে পাবেন তা না জানলেও ঈদ বোনাস হিসেবে যারা পেয়েছেন চাকরি হারানোর সংবাদ।
কর্মচারীরা প্রত্যেকেই ২০২০-২১ অর্থবছরে স্বাস্থ্যবিভাগের আদেশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সারমী ট্রেডার্সের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছিলেন যা পরবর্তীতে আরো ২ অর্থবছরে মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়।
মানব-বন্ধনে উপস্থিত ভুক্তভোগীদের বক্তব্য থেকে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দেশের ৫৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টিকেট ক্লার্ক, বাবুর্চি ও নৈশপ্রহরীর মতো পদে নিয়োগ পান মোট ৪৫৯ জন। এর মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সারমী ট্রেডার্সের মাধ্যমে বগুড়ার ৮টি উপজেলায় ২০২০-২১ অর্থবছরে নিয়োগ পান ৩২ জন। ২০২০ সালের জুন মাস থেকে ২০২২ সালের মে মাস পর্যন্ত বেতন পেয়েছে এসব কর্মচারী। পরে মেয়াদ বৃদ্ধি পেলেও ২০২২ সালের জুন মাস থেকে এখন পর্যন্ত ২১ মাসে তাদের কোন বেতন দেওয়া হয়নি।
বেকারত্ব যখন এই অসহায় মানুষগুলোর জীবনে অন্ধকার নেমে এনেছিলো তখন আউটসোর্সিং এর এই চাকরিটি পেতেও ভুক্তভোগীদের ঘুষ দিতে হয়েছিলো ২ থেকে ৩ লক্ষ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আউটসোর্সিং এ বগুড়ায় এই ৩২ জনের নিয়োগ হলেও ভুক্তভোগীদের বেতন হতো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেই তবে অভিযোগ রয়েছে বছরে বেতন থেকেও একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন দিতে হতো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের। এছাড়াও এই অর্থবছরে প্রায় ১০ মাস চাকরির পর হঠাৎ তাদের বাদ দেয়ার ঘোষণা শুধুমাত্র নিয়োগ বাণিজ্যের উদ্দেশ্যেই বলছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের মাঝে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউটসোর্সিং এ নিয়োগ পাওয়া টিকিট ক্লার্ক মরিয়ম খাতুন বলেন, গত ২১ মাস যাবত এই মাস ওই মাসে বেতন দেবে বলে আমাদের কাজ করিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ঠিকাদারকে ফোনে পাওয়া যায় না। মাঝে মাঝে ফোন খোলা থাকলেও নানা অজুহাত দেখান। সিভিল সার্জন কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে ধরণা দিয়েও কোন লাভ হচ্ছেনা। মরিয়মের মতো বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো এমন বিপর্যয় নেমে এসেছে বগুড়ার ৮টি উপজেলায় নিয়োগ পাওয়া মোট ৩২ জন কর্মচারীর জীবনেও যারা একদিকে যেমন বকেয়া বেতন পাওনা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন অন্যদিকে এই অর্থবছরে ১০ মাস বিনা টাকায় শ্রম দিয়েও ঈদের আগে পেলেন চাকরি হারানোর সংবাদ।
এদিকে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান সারমী ট্রেডার্সের ঠিকাদার আশরাফুল ইসলামের সাথে বারংবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও  তার নাগাল পাওয়া যায়নি। তবে মানবিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ শফিউল আজম। তিনি বলেন, আউটসোর্সিং এ নিয়োগ পাওয়া এই ৩২ জনকে ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রথমে এক বছরের জন্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল যা পরে আরো ২ বছর বৃদ্ধি পায়। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে তাদের বেতন বকেয়া পড়ায় নতুন করে টেন্ডার করা যায়নি তাই তাদের কার্যক্রম বন্ধে আদেশ দেয়া হয়েছে । তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বকেয়া বেতন তারা ঈদের পর পাবেন মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোন গাফিলতি খুঁজে পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ারও কথা বলেন স্বাস্থ্য বিভাগের এই কর্ণধার। 
এদিকে ঈদের আগে সৃষ্টি হওয়া বগুড়ার ৮টি উপজেলার ৩২ জন কর্মচারীর মানবেতর এই পরিস্থিতির সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীসহ সকলে। 

দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন