সমন্বয়ের অভাবে সৈয়দপুর এখন যানজটের শহর | Daily Chandni Bazar সমন্বয়ের অভাবে সৈয়দপুর এখন যানজটের শহর | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১০ অক্টোবর, ২০২৪ ২৩:২১
সমন্বয়ের অভাবে সৈয়দপুর এখন যানজটের শহর
নিষেধাজ্ঞা সত্বেও দিনে পণ্যবাহি বড় ট্রাক, বাস, মিনিবাস প্রবেশে তীব্র যানজটে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে
জেলা সংবাদদাতা, নীলফামারীঃ

সমন্বয়ের অভাবে সৈয়দপুর এখন যানজটের শহর

নীলফামারী জেলার নিউইয়র্ক সিটি বলা হয় সৈয়দপুরকে। এটি দেশের ১১তম শিল্প সমৃদ্ধ ও বাণিজ্যিক শহর। সরকারের রাজস্ব আদায়ের দিক থেকেও অনেক এগিয়ে। তারপরেও এই শহরের নাগরিকদের মিলে না কাঙ্খিত সেবা।  শহরের মূল সড়কগুলোতে যানজট লেগেই থাকে। প্রায় তিন লাখ মানুষের বসবাস ২৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ শহরে। সেই তুলনায় যাতায়াতের রাস্তার পরিমাণ শতকরা মাত্র ৫ ভাগ। বসবাস উপযোগী আধুনিক শহরে মোট আয়তনের ২৫ ভাগ জায়গা যান ও পথচারী চলাচলের জন্য থাকে। সেই তুলনায় যাতায়াতের রাস্তার পরিমাণ শতকরা মাত্র ৫ ভাগ। ৬৬ বছর বয়স চলছে সৈয়দপুর পৌরসভার। বিগত ১৯৫৮ সালে এ পৌরসভার যাত্রা শুরু হয়। তখন অধিবাসীর সংখ্যা ছিলো বর্তমানের তুলনায় ১০ ভাগের এক ভাগ। 
পূর্বের চেয়ে বর্তমানে লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে তিন লাখের কাছাকাছি হয়েছে।  শহরের জনসংখ্যার সঙ্গে বেড়েছে যানবাহনের  সংখ্যাও কয়েকগুণ।  অথচ ৬৬ বছর আগে রাস্তার প্রশ্বস্ততা যা ছিলো আজও তাই আছে। 
সে কারণে সড়কে যানজট সৃষ্টি যেন নিয়তিতে পরিণত হয়েছে। যানজটের কারণ বিষয়ে জানতে কথা হয় সৈয়দপুর পৌরসভার প্রকৌশল দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় রাস্তার প্রশ্বস্ততা অনেক কম।  বর্তমানে যতটুকু রাস্তার প্রশ্বস্ততা আছে তার দুই পাশে থাকে স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকানিদের দখলে। অত্যন্ত ঘনবসতির এই শহরে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ইজি অটোবাইক, ব্যাটারি চালিত রিক্সা ও ভ্যান চলাচল করে। তার মতে মরার ওপরে আবার বিষফোড়া হয়েছে পণ্যবাহি বড় ট্রাকগুলো। 
এসব মোটরযান নিষেধাজ্ঞা সত্বেও দিনের বেলা শহরে প্রবেশ করে। ওঠানামা করে মালামাল। 
ফলে যানজট সৃষ্টি হওয়ার এটাও অন্যতম কারণ। তিনি আরো বলেন,  বিশেষ করে স্কুল কলেজগামী শিক্ষাথীরা যানজটের কবলে পড়ে চরম বিড়ম্বনার শিকার হয়। এজন্য তিনি রাস্তার প্রশ্বস্ততা বৃদ্ধি করার ওপর জোর দেন। 
একই সঙ্গে দিনের বেলা পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশে কড়াকড়ি ও রাস্তার দুই পাস অবৈধ দখলমুক্ত করার ওপর জোর তাগাদা দেন। শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। কথা হয় সেই ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক (টিআই) মো. মাহফুজার আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের মাঝে আইন মানার প্রবণতা জিরোতে চলে এসেছে। ট্রাক চালকরা কথা শুনে না। ফলে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে ট্রাফিক ব্যবস্থা। তার মতে ধারণ  ক্ষমতার চেয়ে প্রায় পাচগুণ ইজি অটোবাইক, ব্যাটারি চালিত রিক্সা, ভ্যান সৈয়দপুর শহরের রাস্তায় চলাচল করে। গ্রামে কাজ না থাকায় গ্রামের হালকা যানগুলোও কাজের খেঁাজে শহরে ভীড় জমাচ্ছে। এ কারণেও সৃষ্টি হচ্ছে সড়কে যানজট। তিনি আরো জানান, প্রত্যেকটি স্থায়ী দোকানের সামনে বসছে অস্থায়ী দোকান। স্থায়ী দোকান মালিকরা দোকানের সামনে রাখে তাদের মালামাল। এতে করে পথচারি চলাচলের কোন জায়গা থাকে না। এরপরেও রয়েছে পথচারি, যাত্রী ও চালকের ট্রাফিক জ্ঞানের অভাব।
তিনি অভিযোগ করে আরো জানালেন,শহরকে যানজট মুক্ত রাখতে হলে পৌর কতৃপক্ষ, ট্রাফিক পুলিশ ও ব্যবসায়ী সংগঠনকে এক চিন্তা ধারণ করে কাজ করতে হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে অনেকাংশে। 
পুলিশের ওই কর্মকর্তার মতে বাইরের থেকে আসা যান্ত্রিক যানগুলো মূল শহরের প্রবেশমুখে আটকাতে পারলে কিছুটা হলেও শহরে যানজট নিয়ন্ত্রণে আসবে। তার মতে শহরের যানজট স্থায়ীভাবে সমাধান করতে হলে রাস্তার প্রশ্বস্ত উভয় পাশে কমপক্ষে ৫ ফুট বৃদ্ধি করতে হবে। অস্থায়ী দোকানিমুক্ত করতে হবে ফুটপাত। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে মানুষের কর্মঘন্টা বাচবে। ব্যবসায়ীদের বাড়বে বেচাকেনা। সব শ্রেণি পেশার মানুষের আয়ও বহুগুণ বেড়ে যাবে। ফিরবে স্থানীয় মানুষের স্বচ্ছলতা। শহরের যানজট নিরসন বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে কথা হয় সৈয়দপুর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলতাফ হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান,  শহরে রাস্তার মাস্টার প্লান না থাকায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তারপরেও আমরা তা নিরসনে কাজ করে যাচ্ছি। তবে শহরের বিশিষ্টজনরা তাদের অভিমতে বলেন, সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল 
থেকে কুন্দলের খড়খড়িয়া ব্রীজ পর্যন্ত শহরের মাঝ দিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাস্তা গেছে। সৈয়দপুর শহরের মূল সড়ক হিসাবে এটি ব্যবহৃত হয়। আর এই সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগ তৈরী করেছে জমি ক্রয় করে। এ সড়কের উভয়পাশে কমপক্ষে ২০ ফুট করে জায়গা অবৈধ দখলদাররা দখল করে 
অবকাঠামো নির্মাণ করে লাখ লাখ টাকা আয় করছে। সড়ক বিভাগের দখল হয়ে যাওয়া দখলমুক্ত করতে পারলে সৈয়দপুর শহরের মূল রাস্তার প্রশ্বস্ততা খুব সহজেই বৃদ্ধি করা সম্ভব। এতে করে বাড়তি যেমন ব্যয় নেই, তেমনি 
নাগরিকদের সেবার মান সহসাই বেড়ে যাবে। ওইসব ব্যক্তিদের মতে শহরের পাচমাথা মোড় হতে সুড়কি মহল্লা হয়ে ভাগাড় পর্যন্ত যে রাস্তাটি গেছে ওই রাস্তার একটি শাখা রাস্তা সুড়কি মহল্লার ভিতর দিয়ে টি.আর সড়কে যুক্ত হয়েছে। 
এ শাখা রাস্তাটির উভয় পাশে অন্ততপক্ষে ৫ ফুট করে বাড়ানো হলে যানজটের চিরস্থায়ী সমাধান হবে। তারা আরো বলেন,  শেরে বাংলা সড়কের তামান্না হলের সামনের অবৈধ ভাবে সড়ক ও জনপথের ভূমিতে গড়ে ওঠা স্থাপনাগুলো সরিয়ে দিতে পারলে এই শহরকে মডেল শহরে রূপ দেয়া সম্ভব। শহরের যানজট নিরসন বিষয়ে জানতে কথা হয় সৈয়দপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর-ই- আলম সিদ্দিকীর সঙ্গে।
তিনি মুঠোফোনে জানান, যানজট নিরসন সম্ভব হবে না। তবে সহনীয় পর্যায়ে আনার চেষ্টা চলছে। এজন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার