রংপুরে এক বৃদ্ধার হত্যাকারীকে ৫ মাসেও সনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ | Daily Chandni Bazar রংপুরে এক বৃদ্ধার হত্যাকারীকে ৫ মাসেও সনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০১:৫৭
রংপুরে এক বৃদ্ধার হত্যাকারীকে ৫ মাসেও সনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ
জালাল উদ্দিন,রংপুরঃ

রংপুরে এক বৃদ্ধার হত্যাকারীকে ৫ মাসেও সনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ

রংপুরে চাঞ্চল্যকর বয়োজ্যেষ্ঠ রাবেয়া হত্যাকান্ডের ৫ মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত আসামিকে সনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ প্রশাসন। এনিয়ে হতাশা আর উৎকণ্ঠায় ভুগছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি। ঘটনাটি ঘটেছে বদরগঞ্জ দামদোরপুর বালুয়া পাড়া গ্রামে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, আসামিদের সন্দেহ করে নিহত রাবেয়া'র ছেলে খাদিমুল ইসলাম বাদী হয়ে তার স্ত্রী- শশুর শাশুড়িসহ ৫ জনকে অভিযুক্ত করে 
বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করার পরেও তদন্ত করে দোষীদের গ্রেফতার করছে না বদরগঞ্জ থানা পুলিশ। এ নিয়ে ওই এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দামদোরপুর বালুয়া পাড়া গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল্লাহ মিয়ার ছেলে খাদিমুল ইসলামের সাথে পার্শ্ববর্তী গোপালপুর ভোট মাড়াই পাড়ার  বাসিন্দা মনবার আলীর মেয়ে মুন্নি আক্তারের সাথে প্রস্তাবে বিয়ে হয় গত বছরেই। খাদিমুল ঢাকায় কর্মরত থেকেই তাদের সংসার চালিয়ে আসে। এদিকে বিয়ের পর থেকেই খাদিমুলের বৃদ্ধা মা-রাবেয়া বেগমের সাথে ছেলের বউ মুন্নি আক্তারের সাথে প্রায় সময়ই ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ই জুলাই ২৪ ইং তারিখে অযাচিত ভাবে মুন্নি তার মা তাহেরা বেগমকে তাদের বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এসে নিহত রাবেয়া বেগমের সাথে অতর্কিত ঝগড়া বিবাদ সৃষ্টি করে এবং রাবেয়া বেগমকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি ধামকি দেন। এ সময় খাদিমুলের বৃদ্ধ বাবা শহিদুল্লাহ ও তার ভাগ্নে পারভেজ  তাৎক্ষণিক ঝগড়া মিটিয়ে দেয়। এ ঘটনার বিষয়ে নিহত রাবেয়া বেগম ওই রাতেই মুন্নির বাবাকে নালিস জানার জন্য সাড়ে ৮ টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে ছেলের শশুর বাড়ীর উদ্দেশ্য রওনা দেয়। তখন থেকেই রাবেয়া নিখোঁজ হন। সেই সময় থেকে তাকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়না। ঘটনার পরের দিন সকালে মুন্নির বাড়ি ঘেঁষে পুকুরে বৃদ্ধা রাবেয়ার ক্ষতবিক্ষত লাশ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী।

এ ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক ভাবে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত করলেও অজানা কারণে নেয়া হয়নি মামলা। নিহত বৃদ্ধা রাবেয়ার শরিরের চোখে আঘাত, নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হওয়াসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন দেখেন এলাকাবাসী। তা সত্তে¡ও বদরগঞ্জ থানা পুলিশ কি কারণে মামলা নিলেন না, তা নিয়ে ওই এলাকার জনমনে বাঁধে নানান প্রশ্ন।
এ বিষয়ে নিহত রাবেয়া'র ছেলে খাদিমুল ইসলাম প্রতিবেদককে বলেন, আমার মা যে হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন তা নিশ্চিত হয়ে থানায় মামলা করতে যাই, থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আদালতে মামলা দায়ের করার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে আমি নিজে বাদী হয়ে আমার স্ত্রী মুন্নি আক্তার ও আমার শশুর শাশুড়িসহ ৫ জনকে আসামি করে বিজ্ঞ আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করি। যা বর্তমানে তদন্ত চলমান রয়েছে। এই মামলা দায়ের করার পর থেকেই শশুর বাড়ীর লোকজন আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এবং উল্টো তারাই আমাকেসহ আমার পরিবারের লোকজনকে জড়িয়ে  আদালতে নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে। এ বিষয়ে নিহত রাবেয়া'র স্বামী বৃদ্ধ শহিদুল্লাহ প্রতিবেদককে বলেন, একদিকে স্ত্রী হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ প্রশাসনের নিরব ভূমিকা অপরদিকে ছেলের শশুর বাড়ির লোকজনের অব্যাহত থাকা হুমকি ধামকি আমার পরিবারটিকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। তিনি ন্যায় বিচার চেয়ে পুলিশ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুন্নি আক্তার প্রতিবেদককে বলেন, ঘটনার দিন আমি শশুর বাড়িতে ছিলাম, এবং ওই দিন সন্ধ্যায় আমার ননদদের সাথে শাশুড়ির টাকা পয়সা নিয়ে ঝগড়া হয়। আমি উভয় পক্ষকে থামাতে গিয়ে তারা আমাকে আমার ঘরের ভিতরে বন্ধ করে রেখেছিল ,পরে কি হয়েছে তা জানিনা। এ বিষয়ে আরো জানাতে চাইলে, তিনি ৮ মাসের অন্তঃসত্বা ও অসুস্থ বলে এড়িয়ে যান।
এ ব্যপারে অভিযুক্ত মনবার আলী, তাহেরা বেগম ও আব্দুর রউফ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততা নেই বলে জানান তারা। তবে রাবেয়া বেগম যে' হত্যাকান্ডের শিকার তা নিশ্চিত করেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম আতিকুর রহমান জানান,ওই সময়ে দেশে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ছিল প্রখর। তাছাড়া আমি এই থানায় যোগদান করেছি চলতি মাসে। তার পরেও বিষয়টি আমরা আমলে নিয়ে ক্ষতিয়ে দেখবো।