শাহজাদপুরে ১.৬ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ: বাঁশে গাইডওয়াল, পোড়া মাটির খোয়া! | Daily Chandni Bazar শাহজাদপুরে ১.৬ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ: বাঁশে গাইডওয়াল, পোড়া মাটির খোয়া! | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১৮ জুলাই, ২০২৫ ০২:২০
শাহজাদপুরে ১.৬ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ: বাঁশে গাইডওয়াল, পোড়া মাটির খোয়া!
চলনবিল, সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতাঃ

শাহজাদপুরে ১.৬ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ: বাঁশে গাইডওয়াল, পোড়া মাটির খোয়া!

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের হরিরামপুর থেকে পাড়মনোহারা পর্যন্ত ৭৫০ মিটার দীর্ঘ একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে চরম অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর অর্থায়নে প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এ সড়কের কাজ এখনও শেষ হয়নি, এরই মধ্যে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ধস, ফাটল এবং নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের ‘সিরাজগঞ্জ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’ থেকে সড়কটির জন্য ১ কোটি ৬৯ লাখ ১২ হাজার ৮৪ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নুর এন্টারপ্রাইজ চুক্তি মূল্য ১ কোটি ৬০ লাখ ৬৭ হাজার ৫৯ টাকায় কাজটি পেলেও পরে এটি সাব-ঠিকাদার রেজাউল করিম লিটনের কাছে হস্তান্তর করে। শুরু থেকেই প্রকল্পের কাজে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ তুলছেন এলাকাবাসী।

বাঁশ দিয়ে গাইডওয়াল!

সরাসরি নির্মাণস্থলে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার পাশে নির্মাণাধীন গাইডওয়ালে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে। চরমোনহারপুর গ্রামের বাসিন্দা আতাউর রহমান বলেন, “এই গাইডওয়াল কয়েক দিন পরেই ভেঙে যাবে। রড বাদ দিয়ে বাঁশ ব্যবহার করলে তা কখনো টেকসই হতে পারে না।”

ফাটল, ধস, বৃষ্টিতে ভেঙে যাচ্ছে রাস্তা

সড়কের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। রাস্তার ব্লকেও ফাটল ধরেছে। অনেক স্থানে রাস্তার দুই পাশেই ধস নামছে। ব্যবহার করা খোয়ার মান এতটাই নিম্নমানের যে, অনেক অংশে হাত দিয়েই ভেঙে ফেলা যাচ্ছে। দুর্গাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আবদুল গফুর বলেন, “চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি যেভাবে মজবুত করে করার কথা ছিল, সেভাবে ঠিকাদার করছে না। অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তার প্রাইমকোট ধুয়ে যাচ্ছে।”

উচ্চতা কম, নিচ থেকে মাটি কেটে উপরে!

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির প্রস্তাবিত উচ্চতা থেকে অন্তত দেড় ফুট কম করে নির্মাণ করা হয়েছে। রাস্তার পাশে কোনো নতুন মাটি ভরাট না করে বরং নিচ থেকে মাটি কেটে উপরে তোলা হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে রাস্তার স্থায়িত্বকে হুমকির মুখে ফেলবে।

মোড়ে ৯০ ডিগ্রি বাঁক: দুর্ঘটনার ঝুঁকি

ব্রিজ সংযোগস্থলে রাস্তার বাঁক নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী না দিয়ে সরাসরি ৯০ ডিগ্রি কোণে বাঁকানো হয়েছে, যা যানবাহনের চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।

স্থানীয়দের ক্ষোভ, কর্তৃপক্ষের দায় এড়ানো

স্থানীয় বাসিন্দা রাশিদুল ইসলাম বলেন, “খোয়ার মান এমন যে একে খোয়া না বলে পোড়া মাটির টুকরো বললেই বেশি মানাবে। এত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারে রাস্তা কোনোভাবেই টেকসই হতে পারে না।”

ঠিকাদার রেজাউল করিম লিটন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কাজ এখনো শেষ হয়নি। সড়কের কাজ শতভাগ নিখুঁত হয় না।”
উপ-সহকারী প্রকৌশলী আলী আহমেদ আল মামুন সাংবাদিকদের প্রশ্নে বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, “আমি কাজের কিছুই জানি না।”

ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী এএইচএম কামরুল হাসান রনী বলেন, “কাজ চুক্তিমতো না হলে কোনো বিল প্রদান করা হবে না। অনিয়মের প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের দাবি তদন্তের

স্থানীয়রা বলছেন, এলজিইডির কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহায়তায় এ ধরনের কাজ হচ্ছে। তারা এই অনিয়মের দ্রুত তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।