ঈশ্বরদী ও লালপুরে সেনাবাহিনীর অভিযান: কাকন বাহিনীর আস্তানায় অস্ত্র-মাদকসহ আটক ৩ | Daily Chandni Bazar ঈশ্বরদী ও লালপুরে সেনাবাহিনীর অভিযান: কাকন বাহিনীর আস্তানায় অস্ত্র-মাদকসহ আটক ৩ | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১৮ জুলাই, ২০২৫ ০২:৩৩
ঈশ্বরদী ও লালপুরে সেনাবাহিনীর অভিযান: কাকন বাহিনীর আস্তানায় অস্ত্র-মাদকসহ আটক ৩
পাবনা জেলা সংবাদদাতাঃ

ঈশ্বরদী ও লালপুরে সেনাবাহিনীর অভিযান: কাকন বাহিনীর আস্তানায় অস্ত্র-মাদকসহ আটক ৩

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাড়া এবং পার্শ্ববর্তী নাটোরের লালপুরে আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা কাকন বাহিনীর আস্তানায় সেনাবাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, মাদক ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ঈশ্বরদীর সাড়া ঘাট ও লালপুরের দিয়ার বাহাদুরপুর এলাকায় সেনাবাহিনী এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ৩ জনকে আটক করা হয়। তারা হলেন– কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার মেহেফুজ সোহাগ (৪০), ঈশ্বরদীর আশরাফুল ইসলাম বাপ্পি (৩০) এবং লালপুরের রোকেয়া খাতুন (৫৫)।

অভিযানে বিদেশি তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র, গুলাবারুদ, নির্যাতনের যন্ত্র, পেন্সিডিল, ইয়াবা, গাঁজার গাছ, একটি মাথার খুলি, মোবাইল সিমকার্ড, এবং ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

এছাড়াও চাঁদাবাজি ও অবৈধ বালু ব্যবসা সংক্রান্ত একটি তালিকা উদ্ধার হয়, যেখানে বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদেরকে নিয়মিত টাকা প্রদানের হিসাব রয়েছে। তালিকা অনুযায়ী, লক্ষীকুন্ডা নৌ পুলিশকে মাসে ৪ লাখ, নাটোরের ডিসিকে এক লাখ, সার্কেল এসপিকে ৫০ হাজার এবং স্থানীয় ওসিকে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হতো।

জানা যায়, পদ্মা নদীর বিভিন্ন ঘাটে চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে কাকন বাহিনী সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। গেলো ৫ জুন ও গত শনিবার সাড়া ঘাটে ফিল্মি স্টাইলে গুলি চালিয়ে তারা ফের আলোচনায় আসে।

আটকরা জানিয়েছেন, কাকন বাহিনীর নেতৃত্বে এই এলাকায় নিয়মিত মাদক সেবন, অস্ত্রের ব্যবহার এবং নারীদের এনে আনন্দ ফূর্তির আয়োজন চলত।

রাজশাহীর বাঘা ঘাটের বৈধ ইজারাদার মিজানুর রহমান বলেন, “আমরা বৈধভাবে বালু ব্যবসা করি। কাকন বাহিনী জোরপূর্বক প্রতিটি নৌকা থেকে চাঁদা আদায় করত। সেনাবাহিনীর আজকের অভিযানকে ঐতিহাসিক বলেই মনে করছি।”

এ বিষয়ে নাটোরের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, “আপনার কাছে থেকেই প্রথম জানলাম। তালিকাভুক্ত ডকুমেন্টস পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সন্ত্রাস দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।