প্রকাশিত : ২৯ আগস্ট, ২০২৫ ১৭:৩২
ঢাকায় ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল
সেন্টারে মনোমুগ্ধকর নজরুল সন্ধ্যা
কাজী নজরুল ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ সাংস্কৃতিক সংযোগের অনন্য প্রতীক- প্রণয় ভার্মা
ষ্টাফ রিপোর্টার
কাজী নজরুল ইসলামের ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের (আইজিসিসি) আয়োজনে এক মনোমুগ্ধকর নজরুল সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার গুলশানের আইজিসিসিতে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে বিশিষ্ট শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, নজরুল গবেষক, তরুণ প্রতিনিধিসহ বিপুল সংখ্যক শিল্পপ্রেমী উপস্থিত থেকে বিদ্রোহী কবিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা কাজী নজরুল ইসলামের বহুমুখী অবদান স্মরণ করে বলেন, “নজরুল ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ সাংস্কৃতিক সংযোগের এক অনন্য প্রতীক।” স্বাধীনতা সংগ্রামে নজরুলের অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, “তার কবিতা শোষিত জাতিকে জাগিয়ে তুলেছিল, আত্মাকে জাগ্রত করেছিল এবং পুরো দেশকে ঔপনিবেশিক শৃঙ্খল ভাঙতে অনুপ্রাণিত করেছিল।” তিনি আরও বলেন, নজরুল আজও তরুণদের জন্য এক অনন্ত প্রেরণা— যিনি সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা দিয়ে জাতীয় সীমানা অতিক্রম করেছেন। প্রণয় ভার্মা বলেন নজরুল আমাদের সম্মিলিত বিবেকের বাতিঘর।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে আইজিসিসির পরিচালক মেরি জর্জ ভারত ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বন্ধনের স্থায়িত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সাহিত্য ও শিল্পের মহীরূহদের স্মরণ এবং তাদের ঐতিহ্যকে লালন করার মাধ্যমে আইজিসিসি দুই দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল দুই খ্যাতিমান নজরুলসঙ্গীত শিল্পী ড. চন্দা চক্রবর্তী ও শহীদ কবির পলাশের পরিবেশনা। বিদ্রোহী কবিতার আগুনঝরা সুর থেকে শুরু করে ভক্তিমূলক ও প্রেমের গান উপস্থিত দর্শকদের গভীরভাবে আন্দোলিত করে। উল্লেখ্য, ড. চন্দা চক্রবর্তী জাতীয় নজরুল সমাজ পদক (২০০৯) ও চ্যানেল আই সেরা পরিবেশনা পুরস্কার (২০১৮) অর্জন করেছেন। অন্যদিকে শহীদ কবির পলাশও নজরুল সঙ্গীতে বিশেষ অবদানের জন্য সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড (২০১০) সহ একাধিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
আয়োজকরা জানান, ‘বিদ্রোহী কবি’ খ্যাত কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন কবি, সংগীতজ্ঞ, স্বাধীনতাকামী বিপ্লবী ও দার্শনিক। তার সাহিত্য ও সঙ্গীত সমতা, স্বাধীনতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অদম্য চেতনা জাগ্রত করেছে, যা বাংলাদেশ ও ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অভিন্ন গৌরব হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই প্রতিবছর ঢাকায় নানা আয়োজনে দুই দেশের কাছেই সম গুরুত্বপূর্ণ কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়।