উৎসবমুখর আয়োজনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন | Daily Chandni Bazar উৎসবমুখর আয়োজনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১২ অক্টোবর, ২০২৫ ২৩:৪৪
উৎসবমুখর আয়োজনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন
‘উত্তরের বাতিঘর’ পেরোল ১৭ বছর, রঙিন সাজে মুখর ক্যাম্পাস
জালাল উদ্দিন, রংপুর:

উৎসবমুখর আয়োজনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন

উত্তরাঞ্চলের গর্ব ও শিক্ষার আলোকবর্তিকা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় পেরিয়ে ১৮তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। রোববার (১২ অক্টোবর) উৎসবমুখর পরিবেশে নানা আয়োজনে উদ্‌যাপিত হয় প্রতিষ্ঠার ১৭তম বার্ষিকী।

দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন হয় সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে উদ্বোধনের মাধ্যমে শুরু হয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা। এরপর বের করা হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, যা ক্যাম্পাস ছাড়িয়ে পার্কের মোড় ও নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে অতিথিবৃন্দ কেক কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভ সূচনা করেন।

আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা

আলোচনা পর্বে জুলাই আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
সভায় উদ্বোধক ছিলেন রংপুর বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. রেজাউল হক।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।
প্রধান আলোচক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন উপাচার্য প্রফেসর ড. এম. লুৎফর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. এনামউল্ল্যা এবং কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রাশেদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী।

দিনব্যাপী উৎসবের আমেজ

আলোচনা সভার পাশাপাশি দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, মিলাদ মাহফিল এবং সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পুরো ক্যাম্পাস সেজে ওঠে রঙিন সাজে, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।

প্রাক্তন শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পরিণত হয় এক স্মৃতিময় উৎসবস্থলে। বক্তারা বলেন—

“বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন, সংগ্রাম ও গৌরবের প্রতীক।”

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মলগ্নের চ্যালেঞ্জ, সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প উঠে আসে বক্তাদের স্মৃতিচারণে। বিশেষভাবে স্মরণ করা হয় জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে, যিনি প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

ইতিহাসের পাতা থেকে

২০০৮ সালের এই দিনে ‘রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন হয়ে হয় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। গত ১৭ বছরে নানা চড়াই–উতরাই পেরিয়ে আজ এটি পরিণত হয়েছে উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের “উত্তরের বাতিঘর” হিসেবে।