বাংলাদেশে গড়ে উঠবে ভ্যাক্সিন ও বায়োটেক কোম্পানী: ২০৩০ সালে উৎপাদন শুরুর প্রত্যাশা | Daily Chandni Bazar বাংলাদেশে গড়ে উঠবে ভ্যাক্সিন ও বায়োটেক কোম্পানী: ২০৩০ সালে উৎপাদন শুরুর প্রত্যাশা | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ২৫ অক্টোবর, ২০২৫ ১৩:৪৮
বাংলাদেশে গড়ে উঠবে ভ্যাক্সিন ও বায়োটেক কোম্পানী: ২০৩০ সালে উৎপাদন শুরুর প্রত্যাশা
প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি ডা: সায়েদুরের
সঞ্জু রায়:

বাংলাদেশে গড়ে উঠবে ভ্যাক্সিন ও বায়োটেক কোম্পানী: ২০৩০ সালে উৎপাদন শুরুর প্রত্যাশা

২০৩০ সাল থেকে বাংলাদেশে সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভ্যাক্সিন ও বায়োটেক কোম্পানীর উৎপাদন শুরুর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান। তিনি বলেন তারা সরকারে না থাকলেও আগামী জানুয়ারী থেকে শুরু হয়ে ৫ বছরের মধ্যে এই প্রকল্প সম্পন্ন হবে। যার মাধ্যমে আমাদের দেশেই তৈরি হবে অ্যান্টিভেনম ও অ্যান্টির‍্যাবিক্স। শুক্রবার রাতে বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগ এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অফ ইনফেকশাস অ্যান্ড ট্রপিকাল ডিজিজ ও টক্সিকোলজি সোসাইটি অফ বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ২দিন ব্যাপী ১৩তম ন্যাশনাল কনফারেন্স অন ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড টক্সিকোলজি এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। বগুড়া শজিমেক এর মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আব্দুস সালাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ডা: সায়েদুর রহমান আরো বলেন, সরকার অ্যান্টিভেনম প্রজেক্টকে অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে রেখেছে। এই প্রকল্পকে দেশের সম্মান ও সার্বভৌমত্বের ইস্যু হিসেবে দেখছেন তারা। এছাড়াও প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার বন্ধে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। এক্ষেত্রে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের ক্ষমতাও দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি সেইসব অসাধু ফার্মেসি মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি ওষুধের গায়ে যারা লাল রঙে এন্টিবায়োটিক না লিখেই ওষুধ বাজারে ছাড়েন সেইসব কোম্পানির উৎপাদন বন্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসময় তিনি আরো জানান, বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার কথা বিবেচনা করে শিক্ষার্থী কিংবা চিকিৎসকেরা কম আকর্ষণীয় বিষয়ে অধ্যায়ন বা গবেষণা করতে চান না। তাই বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে সংক্রামক রোগ ও বিষবিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে কম আকর্ষণীয় ৮টি মৌলিক বিষয়ে বেসিকের শতকরা ৭০ শতাংশ প্রণোদনা দেয়া হবে যা বছরে প্রায় লাখ টাকার অধিক। তিনি সকলকে মানুষের কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যে আহ্বান জানান। শজিমেক হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আবীর হাসান দীপের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শজিমেক এর অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা: মো: ওয়াদুদুল হক তরফদার এবং টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা: জাকির হোসেন। এছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শজিমেকের সাবেক প্রিন্সিপাল এবং শজিমেক হাসপাতালের প্রজেক্ট ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা: ইসমাইল পাটোয়ারী, বাংলাদেশ টক্সিকোলজি সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম. এ. ফয়েজ, বিএমএ বগুড়ার সভাপতি অধ্যাপক ডা: আজফারুল হাবিব রোজ, বিএমএ বগুড়ার সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা: সৈয়দ মাইনুল হাসান সাদিক, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা: আবুল কালাম আজাদ, টিএমএসএস এর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপিকা ড. হোসনে আরা বেগমসহ দেশবরেণ্য চিকিৎসকগণ। কনফারেন্সের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মামুনুর রশিদ। দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ২দিন ব্যাপী এই বৈজ্ঞানিক আয়োজনে সাপে কাটা, ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক, ধনুষ্টংকারসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ও বিষবিজ্ঞান-সম্পর্কিত সাম্প্রতিক গবেষণা এবং চিকিৎসা অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান বাংলাদেশের জলবায়ু ও ভৌগোলিক অবস্থার কারণে ট্রপিক্যাল মেডিসিন ও টক্সিকোলজি একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। সাপে কাটা, ডেঙ্গু ও অন্যান্য সংক্রামক রোগে মৃত্যুহার কমাতে দ্রুত চিকিৎসা, গবেষণা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়। আয়োজকরা জানান, এ ধরনের বৈজ্ঞানিক সম্মেলন চিকিৎসা গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে এবং দেশের চিকিৎসা খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে ভূমিকা রাখে।