ঋণখেলাপি প্রমাণিত, নির্বাচন করার যোগ্যতা হারালেন বিএনপি প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম | Daily Chandni Bazar ঋণখেলাপি প্রমাণিত, নির্বাচন করার যোগ্যতা হারালেন বিএনপি প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ৯ জানুয়ারী, ২০২৬ ২১:০৪
ঋণখেলাপি প্রমাণিত, নির্বাচন করার যোগ্যতা হারালেন বিএনপি প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঋণখেলাপি প্রমাণিত, নির্বাচন করার যোগ্যতা হারালেন বিএনপি প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম

ঋণখেলাপির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা হারিয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ কাজী রফিকুল ইসলাম। তিনি বগুড়া-১ (সোনাতলা–সারিয়াকান্দি) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন।

একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকিরের মনোনয়নপত্র বহাল রয়েছে।

আদালতের সর্বশেষ আদেশে কাজী রফিকুল ইসলামকে ঋণখেলাপি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে প্রচলিত নির্বাচন আইন অনুযায়ী তার প্রার্থিতা বাতিল বলে গণ্য হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেসরকারি দুটি ব্যাংক থেকে নেওয়া বিপুল অঙ্কের ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় কাজী রফিকুল ইসলাম প্রায় ৭৬৫ কোটি টাকার ঋণখেলাপিতে পরিণত হন। নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে তিনি ঋণ পরিশোধ না করেই উচ্চ আদালত থেকে একটি স্থগিতাদেশ আদায় করেন। ওই আদেশে বাংলাদেশ ব্যাংককে তার নাম ঋণখেলাপির তালিকা ও সিআইবি প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

তবে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এক্সিম ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওই স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে রিট করলে আদালত তা প্রত্যাহার করে নেন। এর ফলে কাজী রফিকুল ইসলাম পুনরায় আইনগতভাবে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হন।

এর আগে ঋণখেলাপি হওয়া এবং হলফনামায় একাধিক তথ্যগত অসঙ্গতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বগুড়া জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। এতে সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি উপজেলার বিএনপির নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

আদালতের সর্বশেষ আদেশের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি দেখা যায়। তাদের অভিযোগ, এক-এগারোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দলের সংকটময় সময়ে সংস্কারপন্থি হিসেবে পরিচিত কাজী রফিকুল ইসলাম ২০০৬ সালের পর দীর্ঘ সময় এলাকায় অনুপস্থিত ছিলেন। এমনকি ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার পর মাত্র দুই দিন এলাকায় অবস্থান করেই তিনি ফিরে যান।

সারিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম ফুল বলেন, “দীর্ঘদিন যারা মাঠে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে এবং ত্যাগ স্বীকার করেছে, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া উচিত।”

স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, গত ১৭ বছরের বেশি সময় ধরে বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্যাতনের শিকার হলেও কাজী রফিকুল ইসলামকে কখনো পাশে পাওয়া যায়নি। বরং ডেভেলপার ব্যবসার আড়ালে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগসাজশ করে ব্যাংক ঋণ আত্মসাৎ ও জমি দখলের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বলেন, “আমরা ব্যক্তির নয়, ধানের শীষের পক্ষে। যে প্রার্থী দলীয় প্রতীক পাবেন, তার পক্ষেই আমরা কাজ করবো। তবে তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন জরুরি।”

এ প্রসঙ্গে কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি বর্তমানে বগুড়ায় অবস্থান করছি। বিষয়টি ঢাকায় হয়েছে। সেখানে আমার আইনজীবীরা আছেন, তারা বিষয়টি দেখছেন।”