শীতে আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার ৯ জানুয়ারি ভোরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে তার মৃত্যু হয়। ওই নারীর নাম হাজেরা বেগম - বয়স ৩৬ বছর। তিনি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিশুগাড়ি ইউনিয়নের আব্দুর রহিমের স্ত্রী।
হাজেরা বেগম জন্মগতভাবে বাক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ছিলেন। দগ্ধ হাজেরা বেগমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. কানিজ ফাতেমা। হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ৪ জানুয়ারি দগ্ধ অবস্থায় হাজেরা বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার শরীরের প্রায় ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার ভোরে তিনি মারা যান।
মারা যাওয়া নারীর স্বজন মেহের নেগার জানান, হাজেরা তার মেয়ের ননদ। জন্ম থেকেই তিনি বাক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ছিলেন। প্রচণ্ড শীতের কারণে গত ৪ জানুয়ারি সকালে বাড়ির উঠানে বড়ই গাছের নিচে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় তার পরনের কাপড়ে আগুন ধরে যায়। এতে কোমর ও বুকের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়। আজ ভোরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
রমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. কানিজ ফাতেমা বলেন, শীত মৌসুমে আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ রোগীর সংখ্যা দুই থেকে তিন গুণ বেড়ে যায়। ফলে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে কিছুটা চাপের মুখে পড়তে হয়। তবুও আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। শীত নিবারণে খোলা আগুন ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন, গরম কাপড় পরিধান এবং পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি।
গত বছর শীত মৌসুমে আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ ৫০৬ জন রোগীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদিকে, গত দুই সপ্তাহ ধরে তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত উত্তরাঞ্চল। কুয়াশা ভেদ করে দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মিললেও শীতের তীব্রতা কমেনি।
রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শুক্রবার রংপুর জেলায় সকাল নয়টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশা শীতের তীব্রতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। চলতি মাসে কয়েকটি মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।