স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াও দ্বিতীয় বিয়ে বৈধ, তবে আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি লাগবে: হাইকোর্ট | Daily Chandni Bazar স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াও দ্বিতীয় বিয়ে বৈধ, তবে আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি লাগবে: হাইকোর্ট | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১১ জানুয়ারী, ২০২৬ ২০:৫৭
স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াও দ্বিতীয় বিয়ে বৈধ, তবে আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি লাগবে: হাইকোর্ট
চাঁদনী ডিজিটাল ডেস্কঃ

স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াও দ্বিতীয় বিয়ে বৈধ, তবে আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি লাগবে: হাইকোর্ট

মুসলিম আইন অনুযায়ী পুরুষের জন্য দ্বিতীয় বিয়ে ধর্মীয়ভাবে বৈধ হলেও বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত ছিল। এবার এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত রায়ে বলেছেন, বাংলাদেশের কোনো মুসলিম পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক নয়। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি নিতে হবে

শনিবার (১০ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের ওপর দেওয়া ২৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়।

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুযায়ী দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার স্ত্রীর নয়, বরং সংশ্লিষ্ট আরবিট্রেশন কাউন্সিলের। ফলে স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ—এমন কোনো বিধান প্রচলিত আইনে নেই।

আদালত বলেন, “দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা যেহেতু আরবিট্রেশন কাউন্সিলের হাতে ন্যস্ত, সেহেতু প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না থাকলেই বিয়ে অবৈধ হয়ে যাবে—এমন ব্যাখ্যা আইনের সরাসরি পাঠের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”

রায়ে আরও বলা হয়, আরবিট্রেশন কাউন্সিল সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য, আর্থিক সক্ষমতা, পারিবারিক অবস্থা ও ন্যায়সংগত কারণ বিবেচনা করে দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দেবে। এটিই আইন প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য।

আইনগত প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আদালত উল্লেখ করেন, দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪৯৪ ধারায় বহুবিবাহের জন্য সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও, ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার পর মুসলিম পুরুষদের ক্ষেত্রে সেই বিধান শিথিল করা হয়। নতুন আইনে দ্বিতীয় বিয়ে পুরোপুরি নিষিদ্ধ না করে তা আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল করা হয়।

আইন অনুযায়ী, কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

এদিকে, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন রিটকারীরা। তাঁদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বহুবিবাহের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হতে পারে। নারী ও পুরুষের সমান অধিকার ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন বলে জানান।