শেরপুরে ধান ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ২ | Daily Chandni Bazar শেরপুরে ধান ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ২ | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬ ২২:৪৫
শেরপুরে ধান ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ২
নিজস্ব প্রতিবেদক

শেরপুরে ধান ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ২

বগুড়ার শেরপুরে ধান ব্যবসায়ী হামিদুল মণ্ডল (৪২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় নিহতের দুই ভাতিজাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে সোপর্দ করার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্র জানায়, গতকাল সোমবার বিকেলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হামিদুল মণ্ডলের দুই ভাতিজাকে শেরপুর থানায় নেওয়া হয়। সন্ধ্যার দিকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা হত্যাকাণ্ডে নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তাদের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

গ্রেপ্তারদের একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং অপরজনের নাম আতিক হাসান (২১)

পুলিশ আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত উপকরণ ও মরদেহ স্থানান্তরের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন গ্রেপ্তার দুজন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতেই হত্যায় ব্যবহৃত রশি এবং মরদেহ স্থানান্তরে ব্যবহৃত একটি মই উদ্ধার করা হয়।

এর আগে রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে শেরপুর উপজেলার জামালপুর সড়কের পাশের একটি জমি থেকে হামিদুল মণ্ডলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই জমিটি তার নিজস্ব বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রাফিয়া বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাঈফ আহমেদ জানান, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা স্বীকার করেছেন যে হামিদুল মণ্ডল তিনটি বিয়ে করেছিলেন। প্রথম দুই স্ত্রীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয় এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে তার একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তৃতীয় স্ত্রী রাফিয়া খাতুনের ঘরে সন্তান জন্মালে চাচা হামিদুলের সম্পত্তি নিজেদের হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই তারা হত্যার পরিকল্পনা করে।

তিনি আরও জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত শনিবার রাত আনুমানিক নয়টার দিকে বাড়ির পেছনে ডেকে নিয়ে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় হামিদুল মণ্ডলকে। পরে মইয়ের ওপর তুলে মরদেহটি সড়কের পাশের জমিতে ফেলে রাখা হয়।

শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, হত্যাকাণ্ডের এক দিনের মধ্যেই পুলিশ রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজন ছাড়াও অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।