রাণীনগরে দুই মাসেও জুয়েল হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়নি | Daily Chandni Bazar রাণীনগরে দুই মাসেও জুয়েল হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়নি | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬ ০০:১২
রাণীনগরে দুই মাসেও জুয়েল হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়নি
উদ্ধার হয়নি ভ্যানগাড়ি, মোবাইল-টাকা
রাণীনগর, নওগাঁ সংবাদদাতাঃ

রাণীনগরে দুই মাসেও জুয়েল হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়নি

নওগাঁর রাণীনগরে সড়কের পাশে ধানক্ষেত থেকে যুবক জুয়েল হোসেনের (৩২) লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি থানা পুলিশ। তার কাছে থাকা ভ্যানগাড়ি, মোবাইল ফোন ও খোয়া যাওয়া টাকাও উদ্ধার হয়নি। ফলে সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে চরম হতাশায় তার পরিবার।

গত ৬ নভেম্বর সকালে রাণীনগর-আবাদপুকুর মহাসড়কের পাশে হরিপুর এলাকায় ধানক্ষেত থেকে থানা পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। জুয়েল রাণীনগর উপজেলার রাতোয়াল লওপুকুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই তার পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার বাদি জুয়েলের ছোট ভাই রুবেল হোসেন জানান, ওইদিন ভোরে ভাই জুয়েল কাঁচামাল কেনার জন্য জয়পুরহাটের তিলকপুর হাটে যাবার জন্য অটোচার্জার ভ্যানগাড়ি নিয়ে বের হয়ে যান। সকাল ১০টার দিকে জানতে পারেন জুয়েলের লাশ সড়কের পাশে হরিপুর এলাকায় ধানক্ষেতে পড়ে আছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যাবার পর থানায় গিয়ে তারা জুয়েলের লাশ সনাক্ত করেন। রুবেল জানান, জুয়েলের কাছে কাঁচামাল কেনার জন্য ৩ হাজার ৭০০ টাকা ছিল। লাশ উদ্ধারের সময় ভ্যানগাড়ি, একটি মোবাইল ফোন এবং টাকা পায়নি পুলিশ। এ ঘটনায় তিনি বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

রুবেল হোসেন আরও বলেন, ঘটনার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ঘটনার রহস্য উদঘাটন কিম্বা ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এছাড়া উদ্ধার করতে পারেনি ভ্যানগাড়ি, মোবাইল ফোন এবং টাকা। তিনি বলেন, মাঝে মধ্যে পুলিশ শুধু পরিবারের লোকজনদের ডেকে নানাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। ফলে সুষ্ঠু বিচার নিয়ে চরম হতাশায় পরেছেন তার পরিবার। দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটনসহ জড়িতদের সনাক্ত করে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

জুয়েলের স্ত্রী সোনালী বিবি জানান, জুয়েল রকমারী পেশায় ছিলেন। কখনো ভ্যান চালাতেন আবার কখনো তরিতরকারী কিম্বা সিজিনারী নানান ফলের ব্যবসা করতেন। কারো সাথে কোন দ্বন্দ্ব ছিলনা। কিন্তু  কিভাবে কি হয়ে গেল আমরাও বুঝতে পারছিনা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নাজমুল বলেন, লাশ উদ্ধারের সময় জুয়েলের হাতে আলত করে দড়ি বাঁধা ছিল। শরীরের কোথাও কোন আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। এছাড়া প্রাথমিকভাবে হত্যার তেমন আলামতও মেলেনি। ফলে মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে অনেকটায় হিমসিম খেতে হচ্ছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট এখনো হাতে পাওয়া যায়নি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, পারিবারিকভাবে কোন ঝামেলা ছিল কিনা বা কারো সাথে কোন বিবাদ ছিল কিনা এসব বিষয় ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সুষ্ঠু তদন্ত চলছে।

এ ব্যাপারে রাণীনগর থানার ওসি মো. আব্দুল লতিফ বলেন, জুয়েলের মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে পুলিশ, র‌্যাব এবং সিআইডির একটি টিম কাজ করছে। ইতি মধ্যে সন্দেহভাজন হিসেবে একজনকে সনাক্ত করা হয়েছে। তবে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের সার্থে নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। আসা করছি দ্রুতই রহস্য উদঘাটনসহ জড়িতদের গ্রেফতার করা হবে।