মাটির হাঁড়ি ছাড়ছে গাছিরা, বোতলেই নিরাপদ খেজুর রস সংগ্রহ | Daily Chandni Bazar মাটির হাঁড়ি ছাড়ছে গাছিরা, বোতলেই নিরাপদ খেজুর রস সংগ্রহ | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬ ০০:২১
মাটির হাঁড়ি ছাড়ছে গাছিরা, বোতলেই নিরাপদ খেজুর রস সংগ্রহ
এনামুল হক, বগুড়াঃ

মাটির হাঁড়ি ছাড়ছে গাছিরা, বোতলেই নিরাপদ খেজুর রস সংগ্রহ

শীত এলেই গ্রামবাংলার ভোরে খেজুর রসের মিষ্টি গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। খেজুর গাছ বেয়ে ঝরে পড়া এই রস বহুদিন ধরেই শীতকালীন ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে নিপা ভাইরাসের ঝুঁকি সামনে আসায় সেই চিরচেনা দৃশ্যে এসেছে পরিবর্তন। এখন খোলা মাটির হাঁড়ির বদলে নেট দিয়ে ঢাকা প্লাস্টিক বোতলে খেজুরের রস সংগ্রহ করছেন গাছিরা।

মঙ্গলবার ভোরে এমন চিত্র দেখা গেছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের ঘোলাগাড়ী গ্রামে। আগে খোলা হাঁড়িতে রস সংগ্রহ করা হতো। এতে বাদুড় ও বিভিন্ন কীটপতঙ্গ রসে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা থাকত। আর সেই দূষিত কাঁচা রস থেকেই নিপা ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি হয়। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এখন অনেক গাছি নিরাপদ পদ্ধতিতে রস সংগ্রহে আগ্রহী হচ্ছেন।

খেজুরের রস দিয়ে ফিরনি ও পায়েস তৈরি করা হয়। আবার রস জ্বাল দিয়ে তৈরি করা গুড় দিয়ে শীতের দিনে ভাঁপা পিঠা, চিতই পিঠা, খই, চিড়া ও মুড়িসহ নানা ধরনের পিঠাপুলি বানানো হয়। অনেকের ধারণা, খেজুরের রস শরীরের দুর্বলতা দূর করে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, কাঁচা অবস্থায় এই রস পান করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ঘোলাগাড়ী গ্রামের গাছি বাদশা জানান, তিনি প্রতি বছর প্রায় ১০টি খেজুর গাছ প্রস্তুত করেন। বিকেলের পর গাছ কাটিয়ে ভোরে রস সংগ্রহ করেন। পরে সেই রস ফেরি করে বিক্রি করেন কিংবা লালি তৈরি করেন। এতে বছরে তার প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা আয় হয়।
তিনি বলেন, “বাদুড় ও পোকামাকড় যাতে রসে না ঢুকে, সে জন্যই এখন মাটির হাঁড়ি বাদ দিয়ে প্লাস্টিক বোতল ব্যবহার করছি।”

একই গ্রামের আরেক গাছি মিঠু জানান, তিনি মূলত পরিবারের জন্য খেজুরের রস জ্বাল দিয়ে লালি ও গুড় তৈরি করেন। তবে অনেকে তা বিক্রিও করেন। তার ভাষায়, গ্রামটিতে শীতকালে অনেক পরিবার খেজুরের গুড় বানায়, যা খাবারে আলাদা স্বাদ যোগ করে। একই সুরে কথা বলেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. আজম।

সাধারণত অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত খেজুরের রস সংগ্রহ করা হয়। ঠান্ডা আবহাওয়া, মেঘলা আকাশ ও কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল রস পাওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযোগী। বিশেষ করে পৌষ ও মাঘ মাসে রসের পরিমাণ ও স্বাদ ভালো থাকে। তবে তাপমাত্রা বাড়লে রসের মান ও পরিমাণ কমে যায়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. গোলাম হামিম বলেন, দূষিত কাঁচা খেজুরের রসের মাধ্যমে নিপা ভাইরাস মানবদেহে ছড়াতে পারে। এতে জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, শ্বাসকষ্ট, মানসিক বিভ্রান্তি, খিঁচুনি ও এনসেফালাইটিস দেখা দিতে পারে, যা অনেক ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী হতে পারে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজিদ হাসান সিদ্দিক বলেন, শীতকালে মানুষ খেজুরের রস খেতে বেশি আগ্রহী হয়। তবে নিপা ভাইরাসের ঝুঁকি বিবেচনায় কাঁচা খেজুরের রস পান না করার জন্য সবাইকে সচেতন করা হচ্ছে।