চেক প্রতারণায় কারাদণ্ড, বগুড়ার স্কুল শিক্ষিকা সাময়িক বরখাস্ত | Daily Chandni Bazar চেক প্রতারণায় কারাদণ্ড, বগুড়ার স্কুল শিক্ষিকা সাময়িক বরখাস্ত | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬ ০২:২৫
চেক প্রতারণায় কারাদণ্ড, বগুড়ার স্কুল শিক্ষিকা সাময়িক বরখাস্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক

চেক প্রতারণায় কারাদণ্ড, বগুড়ার স্কুল শিক্ষিকা সাময়িক বরখাস্ত

চেক প্রতারণার দায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কাহালু উপজেলার এক সহকারী শিক্ষিকাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

বরখাস্ত হওয়া শিক্ষিকার নাম মোছাঃ সেলিনা আকতার। তিনি কাহালু উপজেলার কল্যাণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এর সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মোছাঃ সেলিনা আকতার কাহালু উপজেলার ইন্দুখুর গ্রামের মোঃ ইমদাদ হোসেনের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেছিলেন। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও অর্থ ফেরত না দেওয়ায় ভুক্তভোগী আদালতের শরণাপন্ন হন।

দায়রা মামলা নং–১৮২/২০২৪-এর রায় গত ১২ মে ২০২৫ তারিখে বগুড়ার যুগ্ম দায়রা জজ (প্রথম আদালত) ঘোষণা করেন। রায়ে মোছাঃ সেলিনা আকতারকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং চেকের সমপরিমাণ ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

রায়ের পর থেকে দণ্ডপ্রাপ্ত শিক্ষিকা পলাতক রয়েছেন। এছাড়া তিনি ১৩ মে ২০২৫ তারিখ থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনি তিন মাসের মেডিকেল ছুটিতে ছিলেন—যা নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে।

পরবর্তীতে বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের নজরে এলে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১৯৭৮ সালের অফিস মেমোরেন্ডাম এবং সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর ধারা ৩৯(২) অনুযায়ী, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির তারিখ থেকে মোছাঃ সেলিনা আকতারের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি মোতাবেক খোরাকি ভাতা (Subsistence Allowance) পাবেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ রেজোয়ান হোসেন স্বাক্ষরিত আদেশের অনুলিপি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, রাজশাহী বিভাগীয় উপপরিচালক, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

এই ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষা মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত একজন শিক্ষিকার সরকারি ছুটি গ্রহণ ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।