ধুনটে চেকপোস্টে ঘুস নেওয়ার অভিযোগে পুলিশ সদস্যকে গণপিটুনি | Daily Chandni Bazar ধুনটে চেকপোস্টে ঘুস নেওয়ার অভিযোগে পুলিশ সদস্যকে গণপিটুনি | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ২০ জানুয়ারী, ২০২৬ ০২:৪৪
ধুনটে চেকপোস্টে ঘুস নেওয়ার অভিযোগে পুলিশ সদস্যকে গণপিটুনি
নিজস্ব প্রতিবেদক

ধুনটে চেকপোস্টে ঘুস নেওয়ার অভিযোগে পুলিশ সদস্যকে গণপিটুনি

বগুড়ার ধুনটে সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে মোটরসাইকেল চালকের কাছ থেকে ঘুস নেওয়ার অভিযোগে আব্দুল খালেক নামে এক পুলিশ সদস্য গণপিটুনির শিকার হয়েছেন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে ধুনট–শেরপুর আঞ্চলিক সড়কের হুকুম আলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আব্দুল খালেক ধুনট থানায় কর্মরত বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে হুকুম আলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় টিএসআই আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে একটি চেকপোস্ট বসানো হয়। সেখানে পুলিশ সদস্য আব্দুল খালেক ও আব্দুল হামিদ দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় সড়কে চলাচলকারী মোটরসাইকেলের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শুরু করে পুলিশ।

তল্লাশির একপর্যায়ে হেলমেট না থাকায় একটি মোটরসাইকেলের চালকের বিরুদ্ধে মামলা দেন টিএসআই আবুল কালাম আজাদ। একই সময় আরেকটি মোটরসাইকেল থামিয়ে চালকের কাছ থেকে এক হাজার টাকা ঘুস নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়—এমন অভিযোগ ওঠে পুলিশ সদস্য আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে।

ঘুস নেওয়ার বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে আব্দুল খালেককে আটক করে মারধর শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। এ সময় উত্তেজিত জনতা সেখানে উপস্থিত অন্য পুলিশ সদস্যদের ঘেরাও করে রাখে।

খবর পেয়ে ধুনট থানা পুলিশের এসআই মোস্তাফিজার রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে প্রায় এক ঘণ্টা পর ঘেরাওয়ে থাকা পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য আব্দুল খালেক দাবি করেন, স্থানীয়রা তার দেহ তল্লাশি করেও কোনো টাকা পাননি। তার ভাষ্য, “ঘুস নেওয়ার মিথ্যা অভিযোগ তুলে আমাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে টিএসআই আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশে হুকুম আলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়েছিল। একটি মোটরসাইকেলের কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় অন্য একটি মোটরসাইকেল পুলিশ সদস্য আব্দুল খালেক আটক করে ছেড়ে দেন। তিনি টাকা নিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন বলেও জানান। তবে স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে ওই পুলিশ সদস্যকে লাঞ্ছিত করেছে বলে স্বীকার করেন।