জমি সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার দায়িত্ব নিয়ে দোকান ভাড়ার জমাকৃত অর্থ আত্মসাৎ ও টাকা ফেরত দিতে তালবাহানা করার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী ইয়ার মাহমুদ। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে ইয়ার মাহমুদ বলেন, তিনি বগুড়া সদর উপজেলার ঠনঠনিয়া পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা এবং মরহুম কফিল উদ্দিনের নাতি। তার নানার মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ করে তিনি বলেন, তার দুই মামা জামাল ও কামাল তার ছয় খালার প্রাপ্য সম্পত্তি বুঝিয়ে না দিয়ে মিথ্যা দলিল তৈরি করে সব সম্পত্তি নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করেন, যা পারিবারিকভাবে প্রতিহত করা হয়।
তিনি আরও জানান, তার তিন খালা তাদের অংশের কিছু জমি তার মা মোছাঃ বেবী বেগমের কাছে বিক্রি করেন। তবে বাটোয়ারা দলিল না থাকায় ওই জমি খারিজ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে তার মা নিজের অংশসহ ক্রয়কৃত জমি তাকে দলিল করে দেন। কিন্তু ভূমি অফিস বাটোয়ারা দলিলের অভাবে খারিজ দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
এ অবস্থায় জমিতে দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়া হলে বিরোধ আরও জটিল আকার ধারণ করে। তিনি অভিযোগ করেন, তার মামারা স্থানীয় ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মঞ্জকে মীমাংসাকারী হিসেবে নিয়োগ দেন। মঞ্জ উভয় পক্ষকে ডেকে দোকানের মালিকানা নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত ভাড়ার টাকা তার কাছে জমা রাখার সিদ্ধান্ত দেন।
পরবর্তীতে আদালতে দায়ের হওয়া মামলায় তার মামারা পরাজিত হলে তিনি পুনরায় জমি দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় জানতে পারেন, তার দুই খালা তাদের অংশ সাইফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সাইফুল ইসলাম তার ক্রয়কৃত অংশের চেয়ে বেশি জমি দখল করেন এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ও পুলিশি সহায়তায় ভুক্তভোগীর পরিবারকে হয়রানি করা হয়।
ইয়ার মাহমুদ আরও অভিযোগ করেন, সাইফুল ইসলাম জাল ওয়ারিশান সনদ, জাল স্মারক ও ভুয়া দলিলের মাধ্যমে খারিজ সম্পন্ন করেছেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে আদালতের আশ্রয় নিতে বলা হয় এবং এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, একদিকে জমি বিরোধ চললেও অন্যদিকে মীমাংসাকারী মঞ্জর কাছে জমাকৃত সাত মাসের দোকান ভাড়া বাবদ মোট ১ লাখ ১ হাজার ৫০০ টাকা ফেরত চাওয়া হলে তিনি বিভিন্ন অজুহাতে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
ভুক্তভোগী ইয়ার মাহমুদ অভিযোগ করে বলেন, “সকল অংশীদার একসঙ্গে টাকা নিতে গেলে মঞ্জ টাকা দেবেন বলে আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত তিনি টাকা ফেরত দেননি।”
সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি প্রশাসনের কাছে জালিয়াতির সুষ্ঠু তদন্ত, জমি সংক্রান্ত বিরোধের ন্যায়বিচার এবং দোকান ভাড়ার জমাকৃত ১,০১,৫০০ টাকা দ্রুত ফেরতের জোর দাবি জানান।