নাটোর–২ আসনে জামায়াতের নারী কর্মীদের চর-থাপ্পর মারার অভিযোগ- বিএনপির অস্বীকার | Daily Chandni Bazar নাটোর–২ আসনে জামায়াতের নারী কর্মীদের চর-থাপ্পর মারার অভিযোগ- বিএনপির অস্বীকার | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারী, ২০২৬ ২৩:০৯
নাটোর–২ আসনে জামায়াতের নারী কর্মীদের চর-থাপ্পর মারার অভিযোগ- বিএনপির অস্বীকার
নাটোর জেলা সংবাদদাতা

নাটোর–২ আসনে জামায়াতের নারী কর্মীদের চর-থাপ্পর মারার অভিযোগ-  বিএনপির অস্বীকার

বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের মাদ্রাসা মোড়ে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী কার্যালয়ে নাটোরে জেলা জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

নাটোর–২ (সদর) আসনে নির্বাচনী গণসংযোগ চলাকালে জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের ওপর বিএনপি নেতা–কর্মীরা চড়থাপ্পড়সহ হামলা চালিয়ে প্রচারণায় বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতসহ ১০–দলীয় জোট। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে নাটোর শহরের মাদ্রাসা মোড়ে অবস্থিত নাটোর–২ আসনে ১০–দলীয় জোটের প্রার্থী ইউনুস আলীর নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তোলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জামায়াতে ইসলামীর নাটোর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক আতিকুল ইসলাম। এ সময় ১০–দলীয় জোটের প্রার্থী ইউনুস আলীসহ জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে আতিকুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে নাটোর সদর উপজেলার ছাতনি ইউনিয়নের ছাতনি সেন্টার মোড় এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগ করছিলেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা তাদের পথরোধ করে চড়থাপ্পড় মারেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। একই সঙ্গে তারা ওই এলাকায় দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চাওয়া যাবে না বলে হুমকি দেন।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় স্থানীয় জনগণ এগিয়ে এসে নারী কর্মীদের উদ্ধার করেন। পরে ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জসিম মুঠোফোনে জামায়াত নেতা আক্তার হোসেনকে এক দিনের মধ্যে ওই এলাকা থেকে দাঁড়িপাল্লার ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণের নির্দেশ দেন। অন্যথায় সেগুলো ছিঁড়ে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।

ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি বলে জানান জামায়াত নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের প্রার্থী ইউনুস আলী বলেন,
“প্রচারণা শুরুর দিন থেকেই প্রতিপক্ষ প্রার্থীর কর্মীদের এমন ঘৃণ্য আচরণ আমাদের ব্যথিত করেছে। তারা শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশে বাধা সৃষ্টি করছেন। আমরা চাই, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।”

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“আমার বাড়ি ওই এলাকাতেই। সেখানে জামায়াতের নারী কর্মীদের কেউ চড়থাপ্পড় বা লাঞ্ছিত করেননি। তবে তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছিলেন। এতে সন্দেহ সৃষ্টি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের কার্যক্রমে বাধা দিয়েছেন।”

এদিকে নাটোর সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।