নজিপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মধ্যে মারামারি | Daily Chandni Bazar নজিপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মধ্যে মারামারি | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ০০:৪৫
নজিপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মধ্যে মারামারি
হাসান শাহরিয়ার পল্লব, পত্নীতলা, নওগাঁ

নজিপুর সরকারি উচ্চ  বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মধ্যে মারামারি

নওগাঁর পত্নীতলায় ১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার সকালে নজিপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। 
বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করাকে কেন্দ্র করে এই মারামারির ঘটনা ঘটে। মারামারির ঘটনায় উভয় পক্ষের কয়েকজন শিক্ষক আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। 
 
পত্নীতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়া  মারামারির ঘটনায় আহত  শিক্ষক জুবায়ের হোসেন জানান, বুধবার সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে স্বাক্ষর করতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মোঃ রেজাউল করিম, সহকারি  শিক্ষক মনির ও সুলতান তাকে বাঁধা দিয়ে বলেন প্রধান শিক্ষকের ঘরে গিয়ে হাজিরা খাতায় সই করতে হবে। এ সময় আমি বলি আমি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করি তারপর আপনারা খাতা নিয়ে যান। একথা বলার সাথে সাথে মনির ও সুলতান পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমার উপর হামলা করে এবং মারধর শুরু করে। এ সময় শিক্ষক মোঃ রেজাউল করিম এবং মাওলানা শিক্ষক আবু তাহের উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপর্যুপরি কিল ঘুষিতে আমার নাক ফেটে গিয়ে রক্ত বের হয়। পরে সহকর্মীরা আমাকে উদ্ধার করে  হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম  এর ইন্ধনেই আমার উপর এই হামলা করা হয়।
 
 এ বিষয়ে  নজিপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম জানান, নিয়ম অনুযায়ী হাজিরা খাতা প্রধান শিক্ষকের রুমে থাকবে কিন্তু সরকার  শিক্ষকা সেলিনা, জোবায়ের ও বাবর আলী আমার রুম থেকে হাজিরা খাতা শিক্ষকদের কমন রুমে নিয়ে আসে। এ সকল শিক্ষক বিদ্যালয়ের সময়সূচির কোন তোয়াক্কা করেন না। তারা ইচ্ছেমত বিদ্যালয়ে আসেন ও চলে যান। এ বিষয়ে বারবার তাদের সতর্ক করা হলেও তারা কোন তোয়াক্কা করেন না। বুধবার সকালে কমন রুম থেকে হাজিরা খাতা আমার রুমে নিতে গেলে শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতির মতো এই অনাকাংখিত ঘটনা ঘটে। 
এ বিষয়ে পত্নীতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। এ বিষয়ে পত্নীতলা থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, শিক্ষকদের দুই পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  এর আগেও নজিপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছিল বলে জানা গেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায় যে, স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষকই স্থানীয় সে কারণে বিভিন্ন রকম গ্রুপিং ও শিক্ষকতা সঠিকভাবে পালন না করে অন্যান্য কাজে তারা বেশি সম্পৃক্ত। অভিভাবকরা প্রশাসনিক কার্যক্রমের  এর মাধ্যমে এই স্কুলের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে জোর পদক্ষেপ নেবার  আহ্বান জানান।