বগুড়া শহরের নিউ মার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ী মালিক সমিতির এক নেতার ওপর সংঘবদ্ধ হামলা, নগদ অর্থ লুট ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে সংঘটিত এ ঘটনায় ব্যবসায়ী মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. রাশেদুল ইসলাম (৫০) বগুড়া সদর থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাশেদুল ইসলাম নিউ মার্কেট ব্যবসায়িক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক (রেজি নং-রাজ ০০২৯৮৯)। গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মো. আসমাউল হোসেন (৬৫) ও মো. রিয়াদ খাঁন (৩২)-কে বহিষ্কার করা হলে ওই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বহিষ্কারের পর থেকেই অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় তাকে হুমকি দিয়ে আসছিল। বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার দিন বিকেল আনুমানিক ৪টা ১৫ মিনিটে তিনি নিউ মার্কেটে নিজ দোকানে অবস্থানকালে অভিযুক্তরা বাঁশের লাঠি, কাঠের বাটাম, লোহার রড, হাসুয়া ও দেশীয় অস্ত্রসহ সংঘবদ্ধভাবে দোকানে প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে কাঠের বাটাম দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তার কপালের বাম পাশে ফোলা জখম হয়।
এ সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার ভাতিজা মো. শমিত ইসলাম এবং শমিতের বন্ধু মো. নাফিউল ইসলামকেও মারধর করা হয়। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ফোলা ও জখম হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, হামলার একপর্যায়ে অভিযুক্তরা দোকানের ক্যাশ ড্রয়ার থেকে নগদ ৩ লাখ ৪৭ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এছাড়া দোকানের সামনে থাকা তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল (রেজি: বগুড়া-হ-১১-২৪৭৯) এবং তার ভাতিজার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে আনুমানিক ৫ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার পর অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে থানা সূত্র জানায়, অভিযোগটি গ্রহণ করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীরা সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।