মাধবদী উপজেলায় ধর্ষণের ঘটনা চাপা দিতে এক কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাতে কিশোরীর মা বাদী হয়ে নয়জনকে আসামি করে মামলাটি করেন বলে জানিয়েছেন মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার চার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত গ্রেপ্তারদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় তার লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়। পরে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন।
স্বজনদের অভিযোগ, প্রায় ১৫ দিন আগে কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে স্থানীয় এক যুবকের নেতৃত্বে পাঁচ থেকে ছয়জনের একটি দল কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয় বলে দাবি পরিবারের।
কিশোরীর সৎ বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেলে তাকে খালার বাড়িতে রেখে আসার পথে বড়ইতলা এলাকায় অভিযুক্তরা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পেয়ে পরিবার বাড়ি ফিরে যায়।
উল্লেখ্য, নিহত কিশোরী মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকত। তার সৎ বাবার বাড়ি বরিশালে।
এর আগে দুপুরে নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার জানিয়েছিলেন, তখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।