রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় বিএনপির এক নেতাকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন নিজ দলের কর্মীরা। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়নের সিপাইপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওই নেতার নাম এরশাদ আলী (৬৫)।
খুনের ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিহত এরশাদ আলীর ছেলে রিমন আলী (২২) বাদী হয়ে নয়জনের বিরুদ্ধে চারঘাট থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত নেতা আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলকে (৫৫)। তিনি জেলা বিএনপি'র সাবেক সহসভাপতি। এছাড়া চারঘাট উপজেলা বিএনপি'র সাংগঠনিক সম্পাদক জহুরুল ইসলাম জীবনকেও (৪৮) এতে আসামি করা হয়েছে।
অন্য আসামিরা হলেন- ইউসুফপুর নিখাইপাড়া গ্রামের মো. আমরাউল (৫৫), মো. জোয়াভ (৪৫), আতিকুল ইমলাম ওরফে সাইমুল (৪৫), মো. আসাদুল (৩০), মো. সুমন (৩২), মো. দাব্বির (২০) এবং মো. হালিম (৫০)। আতিকুল ইসলাম সাইদুল প্রধান আসামি আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের চাচাত ভাই।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের সমর্থক এবং এলাকার সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের বিষয়কে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল।
আগামী ৯ এপ্রিল ইউসুফপুরে অনুষ্ঠিতব্য জালসার প্রধান অতিথি হওয়ার বিষয় নিয়ে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ইউসুফপুর সিপাইপাড়া জামে মসজিদে স্থানীয় লোকজনদের মতবিনিময় হয়। সেখানে বাদী ও তার বাবাও উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় এক পক্ষ বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলকে প্রধান অতিথি করতে চান। আর অপরপক্ষ স্থানীয় এমপি আবু সাঈদ চাঁদকেই প্রধান অতিথি করতে চান। এ সময় দুৎপক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কিতে আলোচনা ভেস্তে যায়।
এজাহারে বলা হয়, জালসার প্রধান অতিথি হওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে উজ্জ্বল গ্রুপের সমর্থকদের সঙ্গে আবু সাইদ চাঁদ গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে বাক-বিতন্ডা হয়। তখন উজ্জ্বল গ্রুপের সমর্থকরা প্রকাশ্যে হুমকি প্রদান করেন যে, চাঁদকে সমর্থন করলে খুন জখম করে ফেলবেন। এরশাদ আলী এর প্রতিবাদ করলে আসামিরা উত্তেজিত হয়ে উঠেন। পরে তিনি মসজিদ থেকে চলে আসেন।
পরে রাতে এরশাদ আলী তারাবীর নামাজ পড়ার জন্য ইউসুফপুর দিপাইপাড়া মসজিদে যান। নামাজ শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাড়িতে ফেরার পথে ইউসুফপুর সিপাইপাড়া গ্রামে আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বাঁশের লাঠি, লোহার রড, আমের ডাল ও পেয়ারা গাছের ডাল নিয়ে এরশাদ আলীর পথরোধ করেন। এরপর তাকে সেখানে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, ‘আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল জনবিচ্ছিন্ন। জনগণের সমর্থন নাই। তারা এখন মানুষ খুন করে রাজনীতি করতে চাচ্ছে। আমি এই ঘটনার কঠোর বিচার চাই। ইতোমধ্যে পুলিশ-প্রশাসনকে বলেছি।’
জানতে চাইলে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল বলেন, ‘যে গ্রামে ঘটনা, সে গ্রামেই আমার বাড়ি। আমি বিগত ছয়দিন ধরে ঢাকায় আছি। যিনি মারা গেছেন তিনিও সম্পর্কে আমার দাদা। আসামিরাও সবাই আত্মীয়। মসজিদের কমিটি নিয়ে সমস্যায় এই অনাকাঙ্খিত ঘটনাটি ঘটেছে। এখন আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করতে আবু সাঈদ চাঁদ আমাকে জড়িয়ে মামলা করিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমি মনোনয়ন চেয়েছিলাম। মনোনয়ন না পেলেও ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেছি। তারপরও প্রতিহিংসা থামেনি। এটা খুবই নিন্দনীয়। রাজনীতি এত নোংরা হওয়া উচিত না।’
চারঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সিরাজুল ইসলাম জানান, মামলা রেকর্ড হলেও এখনও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ।
তিনি জানান, শনিবার সকালে নিহত এরশাদ আলীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
উল্লেখ্য, নিহত এরশাদ আলী ইউসুফপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ছিলেন। দলীয় মনোনয়নকে ঘিরে ওই এলাকায় আবু সাঈদ চাঁদ ও আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা ছিল। এর জের ধরেই শুক্রবার রাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন এরশাদ।