গত বছরের লোকসানের ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতে চলতি বছরে আলু বাজার দর নিয়ে দুঃচিন্তায় পড়েছেন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার আলু চাষীরা। এ বছরেও লোকসানের কবলে পড়বে এ অঞ্চলের আলু চাষীরা। তারা আলুর ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। হাটে বাজারে পাইকারদের কাছে আলু চাষীদের যেন কোন মূল্যই নেই। তাদের পছন্দ মত দামেই আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। ফলে এ অঞ্চলের কৃষকরা আগামী বছর গুলোতে আলু চাষের আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।
জানা যায়, গত বছর ২০২৫ সালে পানির দামে আলু বিক্রি এবং স্টোর গুলোতে আলু সংরক্ষণের সমস্যার কারণে কৃষকরা উৎপাদিত আলু নিয়ে বিপাকে পড়ে প্রচুর লোকসানের কবলে পড়ে। কৃষকরা চাষাবাদ ছাড়া অন্য কোন কিছু করতে পারে না। তাই গত বছরের লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার জন্য তারা চলতি বছরেও অনুরূপ আলু চাষ করে। কিন্তু বিধি বাম! এ বছরেও একই অবস্থা। পাইকাররা ভুটান জাতের আলু জমিতেই বিঘা প্রতি ৬/৭ হাজার টাকায় কিনছে। এতে কৃষকের বিঘা প্রতি ৭ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। এদিকে হাট বাজারে দেশি জাতের পাকড়ি আলু বিক্রি হচ্ছে ৪শ টাকা ও ভুটান আলু বিক্রিয় হচ্ছে আড়াইশ টাকা মণ দরে। এতে কৃষকদের ৭/৮ হাজার টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে।
উপজেলার শালগ্রামের মোস্তাকিম আলী জানায়, এভাবে প্রতি বছর লোকসান হলে আগামীতে আলু চাষ ছেড়ে দিতে বাধ্য হবে। একই উপজেলার কোমারপুর গ্রামের বেলাল হোসেন জানান, এব্যাপারে সরকারের পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরী। নতুবা কৃষি সেক্টর ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়বে।
আলু ব্যবসায়ী সিরাজগঞ্জের রফিক, আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রামের অনিক, রিফাত হোসেন সহ অনেকে জানান, মোকামে দাম কম হলে আমাদের কিছু করার থাকে না। তারা সিরাজগঞ্জ ও ঢাকা মিরপুরের বাজারে আলু রফতানি করে থাকেন। সেখানে দাম কম হওয়ায় আমরা বাধ্য হয়ে কম দামে আলু কিনছি।